মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে চিলমারীর নৌ বন্দর ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর থেকে আকাশ কিছুটা মেঘলা ছিল। তবে, বৃষ্টি না থাকলেও বিকেলের দিকে আকস্মিক ব্রহ্মপুত্রের বুকে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে নদী উত্তাল হয়ে উঠলে ঘাট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নৌকায় থাকা যাত্রী, মাঝি ও শ্রমিকরা দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ কেউ আতঙ্কিত হয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন। প্রবল বাতাস ও জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে ঘাটে নোঙর করা ছোট ও মাঝারি আকারের অন্তত ২০টি নৌকা পানিতে ডু্বে যায়। পাশাপাশি চারটি বড় নৌকা ভেঙে চুরমার হয়ে মালামালসহ নদে তলিয়ে যায়।
রাজিবপুর উপজেলার নৌকার মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, মালামাল ও যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ঠিক তখনই হঠাৎ জলোচ্ছ্বাস শুরু হয়। নৌকায় থাকা ৫৬ বস্তা সার, দুটি তেলের ড্রাম, সুপারির বস্তাসহ যাত্রীদের বিভিন্ন মালামাল পানিতে ডুবে যায়। অনেক চেষ্টা করে মাত্র তিন বস্তা সার উদ্ধার করতে পেরেছি। বাকিগুলো এখনও পানির নিচেই রয়েছে।
নৌকার মালিক আলী হোসেন বলেন, ঘাটে নৌকাটি বাঁধা ছিল। হঠাৎ জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে আমার ৬০ হাত দীর্ঘ নৌকাটি দুমড়ে-মুচড়ে পানির নিচে তলিয়ে যায়।
নৌ বন্দর এলাকার আসাদুল ইসলাম বলেন, আকাশ মেঘলা থাকলেও তখন বৃষ্টি ছিল না। হঠাৎ করেই জলোচ্ছ্বাস শুরু হলে রমনা ঘাটে বাঁধা থাকা আমার একটি নৌকাসহ আশপাশে বেঁধে রাখা প্রায় ২৪টি নৌকা ডুবে যায়। তবে, নৌকাগুলো ছোট হওয়ায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেগুলো পানির নিচ থেকে তোলা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বড় নৌকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে চিলমারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা (বিআইডব্লিউটিএ) পুতুল রায় জানান, বিকেলে হঠাৎ করে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিবেগে ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়। সেটি ছিল অল্প সময়ের। এতে চারটি বড় নৌকা ভেঙে ডুবে যায়। আমাদের স্পিডবোটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ও ২০টি ছোট নৌকা পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ডুবে যাওয়া মালামাল উদ্ধারে এখনও চেষ্টা চালানো হচ্ছে।