নিহত মো. আসাদ (২৫) বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা মধ্য উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গত শনিবার দুপুরে বগুড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তিনি সারিয়াকান্দিতে অটোরিকশাচালক আব্দুল মান্নান হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। ডিবির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছিলেন এবং রোববার তাকে আদালতে হাজির করার কথা ছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান জানান, সকালে নাস্তা শেষে আসাদ টয়লেটে যান। দীর্ঘ সময় বের না হওয়ায় দরজা ভেঙে দেখা যায়, নিজের লুঙ্গি গলায় পেঁচিয়ে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে ঝুলছেন তিনি। দ্রুত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল ইসলাম রনি জানান, মরদেহে গলায় ফাঁসের দাগ ছাড়া অন্য কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত নিরাপত্তা হেফাজতে ২৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ হেফাজতে ৩০ জন এবং কারা হেফাজতে ২২৭ জন মারা গেছেন।
অন্যদিকে, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর হিসাবে একই সময়ে পুলিশ ও কারা হেফাজতে মোট ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ হেফাজতে ২২ জন এবং কারা হেফাজতে ১৯০ জন।
এ ছাড়া হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে পুলিশ ও কারা হেফাজতে মোট ২৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবের মধ্যে সংখ্যাগত পার্থক্য থাকলেও, নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা যে উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে—সে বিষয়ে তারা একমত। তাদের দাবি, প্রতিটি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
এদিকে বগুড়ার ডিবি হেফাজতে আসাদের মৃত্যুর ঘটনাও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।