শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন বগুড়া সদর উপজেলার ফাপড় এলাকার বেলাল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আমিরুল এবং নূর আলম। বাকি নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর, গাইবান্ধা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শতাধিক দিনমজুর প্রতিদিনের মতো ভোরে এরুলিয়া বাজারের শ্রমিকের হাটে জড়ো হয়েছিলেন। স্থানীয় কৃষক ও গৃহস্থরা সেখান থেকেই দৈনিক মজুরিতে শ্রমিক নিয়ে যান। এ সময় ঢাকা থেকে নওগাঁগামী 'শাহ ফতেহ আলী পরিবহন'-এর একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপেক্ষমাণ শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃষ্টিভেজা সড়কে বাসটি প্রথমে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। চালক নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও বাসটি ঘুরে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
এরুলিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বহুদিন ধরেই এলাকাবাসী একটি স্থায়ী স্পিডব্রেকারের দাবি জানিয়ে আসছেন। আজ আবারও সেই অবহেলার মাশুল দিতে হলো ছয়টি প্রাণ দিয়ে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আবু হোরায়রা বলেন, নিহত ও আহতদের অধিকাংশই দরিদ্র দিনমজুর। অনেকেই রাতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বারান্দায় রাত কাটিয়ে ভোরে কাজের আশায় হাটে এসেছিলেন। দুর্ঘটনায় এরুলিয়া বানদীঘি এলাকার এক শ্রমিকের একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ দিনমজুর ও স্থানীয় বাসিন্দারা বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। তারা অভিযোগ করেন, একই স্থানে বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত একটি স্থায়ী গতিরোধক নির্মাণ এবং নিরাপদ সড়কের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বগুড়া সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে তিনজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং মহাসড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।
এরুলিয়ার এই শ্রমিকের হাট বহু বছর ধরে উত্তরাঞ্চলের দিনমজুরদের জীবিকার অন্যতম ভরসাস্থল। কিন্তু নিরাপত্তাহীন এই সড়কের পাশে প্রতিদিনের মতো দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের জন্য শুক্রবারের সকালটি হয়ে উঠল জীবিকার নয়, মৃত্যুর প্রতীক। এখন প্রশ্ন একটাই—আর কত প্রাণ ঝরলে এই সড়কে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে?