ব্রিটিশ সরকার বলছে, নাগরিকদের গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় পেনশন ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামাল দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে অনেক মানুষ এখনো পুরোপুরি সচেতন নন।
পেনশন বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ মানুষ নির্দিষ্ট বয়সে অবসর, সঞ্চয় ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ ব্যয়ের পরিকল্পনা করে থাকেন। ফলে পেনশন পাওয়ার বয়স কয়েক মাস বা এক বছর পিছিয়ে গেলে অনেকের আর্থিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
হোল্ডেন অ্যান্ড পার্টনার্সের অংশীদার স্টেফানি উইলিয়ামস বলেন, অনেক মানুষ এখনো মনে করছেন ৬৬ বছর পূর্ণ হলেই তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্টেট পেনশন পাবেন। বাস্তবে বর্তমানে জন্মতারিখের ভিত্তিতে পেনশনের বয়স নির্ধারণ করা হচ্ছে।
তিনি অবসরের কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত নিজেদের ‘স্টেট পেনশন ফোরকাস্ট’ এবং ‘ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স রেকর্ড’ যাচাই করার পরামর্শ দেন।
কীভাবে পরিবর্তন হচ্ছে বয়সসীমা
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৯৬০ সালের ৬ এপ্রিল থেকে ৫ মে-র মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা ৬৬ বছর ১ মাস বয়সে স্টেট পেনশনের জন্য যোগ্য হবেন। এরপর ধাপে ধাপে বয়সসীমা বাড়তে থাকবে।
উদাহরণ হিসেবে, ১৯৬১ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা ৬৬ বছর ১১ মাস বয়সে পেনশন পাবেন। আর ১৯৬১ সালের ৬ মার্চ থেকে ১৯৭৭ সালের ৫ এপ্রিলের মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজের জন্মতারিখ অনুযায়ী পেনশন পাওয়ার সঠিক সময় নিশ্চিত করতে সরকারি পেনশন ক্যালকুলেটর বা সংশ্লিষ্ট অনলাইন সেবা ব্যবহার করা উচিত।
আর্থিক চাপের আশঙ্কা
পেনশন বিশেষজ্ঞ ও প্রবীণ অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, যারা আগে থেকেই নির্দিষ্ট বয়সে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন, তাদের জন্য এই পরিবর্তন অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, যেসব ব্যক্তি স্বাস্থ্যগত কারণে পূর্ণ সময় কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন না, তাদের অনেকেই পেনশন পাওয়ার আগ পর্যন্ত আয়ের ঘাটতিতে পড়তে পারেন।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের সংসদের একটি কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা শুরু করেছে। পেনশন বয়স বৃদ্ধির ফলে কর্মক্ষমতা হারানো বা সীমিত আয়ের মানুষের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অবসরের পরিকল্পনা করছেন এমন প্রত্যেকের উচিত এখনই নিজেদের স্টেট পেনশনের বয়স যাচাই করা এবং পরিবর্তিত নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক পরিকল্পনা হালনাগাদ করা।