রোববার প্রকাশিতব্য এক প্রবন্ধে তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, কাউন্সিল হাউজিংয়ে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের তিন মাসের মধ্যে বিকল্প ব্যক্তিগত আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা করতে ব্যর্থ হলে তাদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার বাতিল করে বহিষ্কার করা হতে পারে।
এর আগে রিফর্ম ইউকে তাদের ‘অপারেশন রিস্টোরিং জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ বছরে প্রায় ৬ লাখ অভিবাসীকে বহিষ্কারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। গত এপ্রিলে ফারাজ দাবি করেছিলেন, অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা প্রায় ৪ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর থাকার অধিকার বাতিল করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। দলটি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ‘ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন’ ব্যবস্থাও বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সামাজিক আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে যুদ্ধফেরত সেনাসদস্য, দীর্ঘদিন স্থানীয় এলাকায় বসবাসকারী ব্রিটিশ নাগরিক, পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তি এবং কেয়ার সিস্টেম থেকে বের হয়ে আসা তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তবে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের কাউন্সিল হাউজিং ছাড়তে বাধ্য করা হবে না। তবে তাদের হাউজিং বেনিফিটসহ কিছু কল্যাণমূলক সুবিধা সীমিত করা হতে পারে।
ফারাজের দাবি, বর্তমান আবাসন নীতির কারণে কিছু এলাকায় স্থানীয় ব্রিটিশ জনগোষ্ঠী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং এতে সামাজিক সংহতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, লন্ডনের সামাজিক আবাসনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা যুক্তরাজ্য বা আয়ারল্যান্ডের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। তবে সরকারি পরিসংখ্যান এ বিষয়ে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।
ফারাজের প্রস্তাবের সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্যের সরকার। সরকারি সূত্রের ভাষ্য, ব্রিটিশ জনগণ ‘আমেরিকান ধাঁচের উগ্র অভিবাসন রাজনীতি’ সমর্থন করবে বলে মনে করলে ফারাজ ভুল করছেন।
অন্যদিকে, রিফর্ম ইউকের চেয়ারম্যান জিয়া ইউসুফ বলেন, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সামাজিক আবাসনে বিদেশি নাগরিকদের বসবাস অর্থনৈতিকভাবে ব্যর্থ নীতির প্রতিফলন এবং এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের ক্রমবর্ধমান আবাসন সংকট ও অভিবাসন ইস্যুতে ভোটারদের উদ্বেগকে সামনে রেখেই রিফর্ম ইউকে এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে প্রস্তাবটি ইতিমধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।