সিটি অব লন্ডন পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘ তদন্ত শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আলী রাজাকে চার বছর আট মাস এবং আদিল আসলামকে দুই বছর দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁদের দোষ স্বীকারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ট্যাগের আওতায় কাটানো সময়ও সাজার মেয়াদ থেকে সমন্বয় করা হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, আলী রাজা ও আদিল আসলাম এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মাদক চক্র ও বিভিন্ন সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। পূর্ব লন্ডনের ইস্ট হ্যামে অবস্থিত একটি মানি সার্ভিস ব্যবসার আড়ালে তাঁরা অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।
সিটি অব লন্ডন পুলিশ ও ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির যৌথ অভিযান ‘অপারেশন ভেনেটিক’-এর আওতায় এনক্রোচ্যাট থেকে উদ্ধার করা বার্তার সূত্র ধরে তাঁদের শনাক্ত করা হয়।
তদন্তকারীরা জানান, ২০২০ সালের মার্চ থেকে জুন- এই তিন মাসে চক্রটি প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড অবৈধ অর্থ পাচার ও বৈধ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করিয়েছে। তবে গোয়েন্দাদের ধারণা, ২০১৯ সালের মে থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত আলী রাজার নিয়ন্ত্রণাধীন নেটওয়ার্কটি ১৯ কোটি পাউন্ডের বেশি অর্থ স্থানান্তর বা পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
তদন্তে আরও জানা যায়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অপরাধী গোষ্ঠী, যার মধ্যে রুশ অপরাধী চক্রও ছিল, তারা নগদ অর্থ আলী রাজার কাছে হস্তান্তর করত। পরে ওই অর্থ মানি সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৈধ আর্থিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হতো।
২০২০ সালের জুনে লন্ডনের ওয়ালথামস্টো এলাকার একটি ভূগর্ভস্থ কার পার্ক থেকে আলী রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছে নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড পাওয়া যায়, যা তিনি বিশেষ ধরনের মানি বেল্টে লুকিয়ে রেখেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসভবনে অভিযান চালিয়ে পুলিশ আরও ১৩ লাখ পাউন্ড নগদ অর্থ, ৩ লাখ মার্কিন ডলার এবং সেফটি ডিপোজিট বক্সে রাখা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও অন্যান্য সম্পদ জব্দ করে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ লাখ পাউন্ড মূল্যের নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।
সিটি অব লন্ডন পুলিশের সিরিয়াস অর্গানাইজড ক্রাইম টিমের ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর ওয়েলার বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিশ্বজুড়ে লকডাউন চলাকালে এই চক্রটি গোপন যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে অপরাধলব্ধ অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করেছিল।
তিনি বলেন, অর্থপাচারের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠীগুলো তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করে। এই অভিযানের ফলে লন্ডনের অবৈধ আর্থিক নেটওয়ার্কে বড় ধরনের আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে।