পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ৮০ সেকেন্ডে একজন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৬০ জন ক্যান্সারে মারা যাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে যুক্তরাজ্যে আট লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ক্যান্সারে। বার্ষিক মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজারের মধ্যে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ। এ পর্যন্ত প্রায় ৫৭ হাজার ক্যান্সার কেসের সঙ্গে ধূমপানের সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এছাড়া স্থূলতা, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোতে ক্যান্সারে মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বিশেষ করে লন্ডনের বার্কিং অ্যান্ড ডেগেনহ্যাম, নিউহ্যাম এবং হ্যাকনির মতো এলাকায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক।
এদিকে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ফুসফুস, লিভার ও মুখগহ্বরের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশিদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি। ধূমপান, জর্দা-গুলসহ পান-সুপারি সেবন এবং দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএস ক্যান্সার চিকিৎসা ও সেবার মান উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসকরা ধূমপান বর্জন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সার দ্রুত শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সফলতা এবং রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই হতে পারে এই রোগ মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।