নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে লার্নার ড্রাইভাররা তাদের মূল বুকিং করা টেস্ট সেন্টারের কাছাকাছি মাত্র তিনটি অনুমোদিত সেন্টারে পরীক্ষার তারিখ বা কেন্দ্র পরিবর্তন করার সুযোগ পাবেন। এর বাইরে দূরবর্তী কোনো সেন্টারে পরীক্ষা স্থানান্তরের সুযোগ আর থাকছে না। মূলত টেস্ট বুকিং নিয়ে তৈরি হওয়া কৃত্রিম সংকট কাটার উদ্দেশ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে দ্রুত পরীক্ষার ডেট পাওয়ার জন্য অনেক পরীক্ষার্থী দেশের প্রত্যন্ত বা দূরবর্তী কোনো এলাকার সেন্টারে টেস্ট বুক করতেন। পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে তা পরিবর্তন করে নিজেদের এলাকার কাছাকাছি সেন্টারে স্থানান্তর করে নিতেন। এই প্রবণতার কারণে ডিভিএসএ-এর মূল বুকিং সিস্টেমের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতো এবং সাধারণ পরীক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে ডেট পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।
বিবিসির সংগৃহীত সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, গত বছর যুক্তরাজ্যে বুকিং করা প্রায় ২০ লাখ ড্রাইভিং টেস্টের মধ্যে অন্তত ৬৪ হাজার ৫০০টি টেস্টে পরীক্ষার্থীরা শেষ পর্যন্ত উপস্থিতই হননি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, স্বয়ংক্রিয় 'বট' ব্যবহারকারী কিছু তৃতীয় পক্ষের রিসেলাররা এসব স্লট আগেভাগে বুক করে কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি করার চেষ্টা করত, যার একটি বড় অংশ পরে বাতিল বা নষ্ট হয়ে যেত।
ডিভিএসএ-এর আশা, নতুন এই সীমাবদ্ধতার কারণে বারবার বুকিং পরিবর্তন কিংবা দূরবর্তী কেন্দ্র ব্যবহারের প্রবণতা কমবে, যা দালাল ও বট ব্যবহারকারীদের দৌরাত্ম্য রুখে দেবে। ফলে প্রকৃত পরীক্ষার্থীদের জন্য অনেক বেশি খালি স্লট উন্মুক্ত হবে। তবে ড্রাইভিং প্রশিক্ষক সংগঠনগুলোর একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের এই বুকিং সংকট পুরোপুরি মেটাতে কেবল এই একটি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়। তা সত্ত্বেও, অপেক্ষার দীর্ঘ সময় কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটিকে একটি সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।