আজ শনিবার (২৩মে) সকাল ১০টার দিকে ভোলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলন কক্ষে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকেরের সভাপতিত্বে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন অতিরিক্ত জেলা জজ মো. শওকত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা জজ মো. এনায়েত উল্ল্যাহ, যুগ্ম জেলা জজ রাজেশ চৌধুরী, ভোলা গণপূর্ত বিভাগপর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবিল আয়াম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অনিন্দ্য মন্ডল, পিপি অ্যাডভোকেট মো. তৈয়ব, এজিপি অ্যাডভোকেট জনাব ফয়সল আহাম্মদ রাসেলসহ উপস্থিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
এ সময় ভোলা বিচার বিভাগের বিচারকবৃন্দ, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, কোস্ট গার্ডের জোনাল কমান্ডার, র্যাবের ক্যাম্প কমান্ডার, পিপি, এজিপি, ভিপি কৌঁসুলি, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।অধিবেশনের শুরুতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের উপরে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৌরভ রায় মিঠু এবং সিভিল জজ আরিফ আফসার শুভ ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি হতে এপ্রিল মাস পর্যন্ত দায়েরকৃত ও নিষ্পত্তিকৃত মোকাদ্দমার পরিসংখ্যান প্রদান করেন। উক্ত পরিসংখ্যান দেখে উপস্থিত সকলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
এ সময় বক্তারা সরকার বিবাদী মোকাদ্দমায় লিখিত জবাব বা সাক্ষ্য প্রদানে অহেতুক বিলম্ব, দক্ষ সাক্ষী হাজির না করা, ১নং খাস খতিয়ানের জাবেদা নকল সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা, একতরফা নিষ্পত্তিকৃত মোকাদ্দমাগুলোর ডিক্রি অনুযায়ী রেকর্ড সংশোধন না করা, দেওয়ানী কার্যবিধির সংশোধনী, পারিবারিক আদালতের ডিক্রি জারির পিছনে প্রতিবন্ধকতা, পারিবারিক আদালত হতে প্রেরণকৃত লেভি ওয়ারেন্ট যুক্তিসঙ্গত সময়ে ফেরত না আসা এবং এর ফলে ভরণপোষণ বা দেনমোহরের টাকা বুঝে পাওয়ার জন্য ভুক্তভোগী ডিক্রিদারের দুর্দশার বিষয়ের ওপরে আলোকপাত করেন। মেডিকেল সার্টিফিকেটের অসামঞ্জস্যতা, মাদক মামলায় প্রবেশন, তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব, বিচারক সংকট, অরক্ষিত আদালত প্রাঙ্গন, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ছাড়া এজলাসে বিচারকাজ পরিচালনা, আদালতের মূল ফটকে নিরাপত্তা তল্লাশির ব্যবস্থা না থাকা, আদালত প্রাঙ্গন ও এজলাসগুলোতে নিরাপত্তাহীনতার সামগ্রিক বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।
চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মো. নোমান তার বক্তব্যে এজাহার, তদন্ত প্রতিবেদন, মেডিকেল সার্টিফিকেটে অপ্রত্যাশিত ত্রুটি বিষয়ক আলোচনা করেন। যুক্তিসঙ্গত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করা এবং এ প্রেক্ষিতে মামলার উপর প্রভাব, জব্দ তালিকা ও মেমোরেন্ডাম অফ অ্যারেস্ট বিধি মোতাবেক তৈরি, ভার্চুয়াল মাধ্যমে সাক্ষীগ্রহণ, সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ বিষয়ে আলোকপাত করেন।
সিভিল সার্জন জনাব ডা. মু. মনিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে মেডিকেল সার্টিফিকেটের বিষয়ে বিধি অনুসরণের জন্য অত্র জেলার মেডিকেল অফিসারদের নির্দেশনা প্রদান এবং উক্ত নির্দেশনা মোতাবেক মেডিকেল সার্টিফিকেটে ত্রুটির বিষয়টি লাঘব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার তার বক্তব্যে জব্দ তালিকা, মেমোরেন্ডাম অফ অ্যারেস্ট, তদন্ত প্রতিবেদন বিধি মোতাবেক তৈরির বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং আদালতের আদেশ ও ডিক্রি জারির প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নুরে আলম ফয়জুল্লাহ