বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর চাচা আবু তালেব জানান, কিশোরীর মা তার দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বাড়িতে কিশোরী, তার অপর বোন ও ছোট ভাই ছিল। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তারা প্রথমে দরজা খুলতে চাপ দেয়। ভেতর থেকে দরজা না খোলায় জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা হামলার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এ সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে গণপিটুনি দিয়ে সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।
ভুক্তভোগীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “শাশুড়ির অপারেশনের কারণে আমি হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের অবস্থা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আমার মেয়েকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শামছুল আজম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসীর হাতে আটক দুইজন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।