বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে ছুটির পর শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও বিভিন্ন প্লাকার্ড প্রদর্শন করা হয়। প্লাকার্ডে লেখা ছিল ‘বিরামচিহ্ন ঠিক রাখি, শুদ্ধ বাংলা লিখি’, ‘বিরামচিহ্নের সঠিক ব্যবহার, ভাষার সৌন্দর্য বাড়ায় বারবার’ সহ নানা সচেতনতামূলক লেখা। অনুষ্ঠানে শিক্ষকরা বলেন, ভাষার লিখিত রূপকে অর্থবোধক, সুস্পষ্ট ও শ্রুতিমধুর করে তুলতে বিরামচিহ্নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি কমা, দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক বা বিস্ময়বোধক চিহ্নের যথাযথ ব্যবহার অনেক সময় একটি বাক্যের অর্থ ও ভাব সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দিতে পারে। তাই শুধু পরীক্ষার খাতায় নয়, দৈনন্দিন লেখালেখিতেও শিক্ষার্থীদের বিরামচিহ্নের সঠিক ব্যবহার জানতে হবে।
আলোচনায় আরও জানানো হয়, আন্তর্জাতিকভাবে ২৪ সেপ্টেম্বর ঘধঃরড়হধষ চঁহপঃঁধঃরড়হ উধু হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রে জেফ রুবিনের উদ্যোগে ২০০৪ সাল থেকে দিবসটি পালনের প্রচলন শুরু হয়। বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে ২৪ সেপ্টেম্বর বিরামচিহ্ন দিবস সম্পর্কে লেখা প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিবসটি নিয়ে আলোচনা করেনি। এমন কোন নির্ভযোগ্য তথ্য অনলাইনে পাওয়া যায়নি। সেই বিবেচনায় মঠবাড়িয়ার মারকাযুল হুদা আলিয়া মাদ্রাসার ২০২৬ সালের এই উদ্যোগটি ব্যতিক্রমী। বাংলা বিভাগের উদ্যোগে আয়োাজিত এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি, শুদ্ধ বানান ও ভাষারীতি চর্চায় উৎসাহিত করা এবং বিরামচিহ্নের যথাযথ ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরা।
মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের শিক্ষক মোঃ রুম্মান হাওলাদার বলেন, “শিক্ষার্থীরা যেন শুধু পাঠ্যবইয়েরর জ্ঞান অর্জন না করে, বরং বাংলা ভাষাকে শুদ্ধভাবে পড়তে, লিখতে ও ব্যবহার করতে শেখে এ লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ। বিরামচিহ্ন ছোট হলেও ভাষার অর্থ ও সৌন্দর্য রক্ষায় এর ভূমিকা অত্যন্ত বড়।”
আযোাজকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুদ্ধ বাংলা চর্চার আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে।