শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে মোহনগঞ্জ পৌর শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে নবদম্পতির বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। এতে কনের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। চীনা জামাইকে একনজর দেখতে অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় জমান দূর-দূরান্ত থেকে আসা উৎসুক মানুষজন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ওয়্যাং সুলিন। পরে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একই দিনে নাজমিন আক্তার লিজাকে বিয়ে করেন তিনি। চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা ওয়্যাং সুলিন। সেখানে তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন।
অন্যদিকে, নাজমিন আক্তার লিজা সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামের মো. নাজিম উদ্দীনের মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তার বাবা নাজিম উদ্দীন স্থানীয় একজন ফার্নিচার ব্যবসায়ী। বড় ভাই সোহানও স্থানীয় একটি ফার্নিচারের দোকানে কাজ করেন। লিজা বর্তমানে মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
লিজার বড় ভাই সোহান জানান, প্রায় দুই মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওয়্যাং সুলিন ও লিজার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিষয়টি দুই পরিবারকে জানান। উভয় পরিবারের সম্মতির পর গত ১৮ জুলাই বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন। পরে পরিবারের সদস্যরা ঢাকার বিমানবন্দর থেকে তাকে মোহনগঞ্জে নিয়ে আসেন।
লিজার বাবা মো. নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘বিয়ের আগে আমরা ছেলের পরিবার এবং চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করেছি। তার পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
লিজার পরিবারের ভাড়া বাসার মালিক স্থানীয় বাসিন্দা সাহাজুল বলেন, ‘শুরুতে বিদেশিদের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার খবর থাকায় কিছুটা শঙ্কা ছিল। তবে মেয়ের পরিবার সব তথ্য যাচাই-বাছাই করেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
এদিকে, চীন থেকে আসা তরুণের ইসলাম গ্রহণ ও স্থানীয় তরুণীকে বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে মোহনগঞ্জজুড়ে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবারের বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় চীনা নাগরিক ওয়্যাং সুলিন ওরফে মো. নুর উদ্দিনকে একনজর দেখতে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। ফেসবুকের পরিচয় থেকে শুরু হওয়া এই ভালোবাসার গল্প এখন দুই ভিন্ন দেশের দুই তরুণ-তরুণীর নতুন জীবনের বন্ধনে রূপ নিয়েছে।