এ সকল অপপ্রচারে ভিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানিয়েছেন ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার। এ সময় তিনি মিতুর মৃত্যু নিয়ে সঠিক তদন্তের আশ্বাস দেন। বুধবার (১০জুন) দুপুরে ভোলার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের দেয়া এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান। তিনি অরো জানান, গত ৩জুন খবর পেয়ে ভোলা শহরের উকিলপাড়া একটি বাসা থেকে সুমাইয়া আক্তার মিতু নামের এক গৃহবধূর মরদেহ তার বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে উদ্ধার করে। এ সময় মিতুর স্বামী মো. সোহাগসহ শশুর বাড়ির লোকজন পলাতক ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানাতে পারে মিতুর মরদেহটি প্রথমে একটি রুমে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিলো। পরে তার শশুর বাড়ির লোকজন সেটি নামিয়ে খাটে রেখে মিতুর বাবা-মাকে খবর দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় মিতুর বাবা মো. বশির আহমেদ বাদী হয়ে মিতুর স্বামী, শাশুরী ও ননদসহ চারজনের নামে মৃত্যুর প্ররোচনার একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলাটি পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। এরই মধ্যে মিতুর মা মিতুকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে আদালতে আরেকটি অভিযোগ দাখিল করছেন। একদিকে মিতুর বাবা মৃত্যুর প্ররোচনায় থানায় মামলা করেছে অপরদিকে মিতুর মা আদালতে হত্যা মামলা করেছেন। তাই মিতুর মৃত্যুতে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না ভোলা সদর মডেল থানার ওসির কাছে আদালত বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। এদিকে মামলার তদন্ত চলাকালিন সময়ে ফেসবুকে মিতুকে হত্যা করা হয়েছে বলে নানা ধরণের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হতে মিতুর মৃত্যু নিয়ে কাউকে ভিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানান পুলিশ সুপার।
এছাড়াও মিতুর ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে দ্রুত মিতুর মৃত্যুর বিষয়ে পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া হবে। একই সাথে মিতুর মায়ের আদালতে দায়ের করা মামলার বিষয়ও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (০৩জুন) দুপুরে ভোলার শহরের উকিল পাড়া একটি ভাড়া বাসার পাঁচতলার একটি ফ্লাট থেকে মিতুর মরদের উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মিতু ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের মো.বশির আহমেদের মেয়ে। বুধবার দিবাগত রাতে মিতু তার বোন মিমের মোবাইল ফোনে ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়ে জানান যে- স্বামী সোহাগ তাকে মারধরসহ অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে স্বামী সোহাগ তার শ্বশুর বাড়িতে ফোন দিয়ে তাদেরকে দ্রুত আসতে বলেন। তারা এসে দেখেন ঘরের দরজা খোলা এবং সোহাগসহ ঘরে থাকা তার পরিবারের অন্যান্য লোকজন বাসায় নেই। ঘরের ভিতরে গিয়ে দেখতে পান ঘরের শয়নকক্ষের খাটের উপর সুমাইয়ার মরদেহ পরে আছে। পরে ভোলা সদর থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।