পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক মন্ত্রী এবং পুরস্কার কমিটির প্রধান আহসান ইকবাল সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, চিকিৎসক ডা. জল রতনজি প্যাটেল এবং রেডিওলজিস্ট ডা. জল ধাইবোহ-কূকে দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’ এর জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
১৯৪৬ সালে ওই দুই চিকিৎসক জিন্নাহর এক্স-রে পরীক্ষা করে দেখতে পান যে তার যক্ষ্মা বা টিউবারকুলোসিস রোগটি অত্যন্ত জটিল পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং তার জীবন আর মাত্র এক থেকে দুই বছর বাকি রয়েছে। তবে চিকিৎসাগত গোপনীয়তা ও পেশাদারিত্বের কথা মাথায় রেখে তারা বিষয়টি কঠোরভাবে গোপন রাখেন।
ঐতিহাসিকদের মতে, জিন্নাহর অসুস্থতার এই সত্যটি প্রকাশ পেলে ভারতভাগের সময় এবং পাকিস্তানের জন্মপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারত।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত সংকটপূর্ণ সময়ে পেশাদারিত্ব বজায় রেখে নিরবচ্ছিন্ন ও অসাধারণ অবদানের জন্য এই দুই চিকিৎসককে মরণোত্তর এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। দীর্ঘ ৭৮ বছর পর আগামী মার্চ মাসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এই পদক দেওয়া হবে।
ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনও পরবর্তীতে স্বীকার করেছিলেন যে জিন্নাহর অসুস্থতার তীব্রতা যদি তিনি আগে থেকেই জানতেন, তবে হয়তো দেশভাগের সময় পেছানোর কথা বিবেচনা করতেন, যা ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে পারত।
ইতিহাসবিদদের মতে, ১৯৩০-এর দশক থেকেই যক্ষ্মায় ভুগছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। সে সময় যক্ষ্মা একটি মারাত্মক ও নিরাময়হীন রোগ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও নেতৃত্ব ধরে রাখতে জিন্নাহ বিষয়টি জনসমক্ষে আনেননি এবং অত্যন্ত সীমিত কিছু মানুষের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন।
অবশেষে, দেশভাগের মাত্র এক বছরেরও বেশি সময় পর ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ফুসফুসের যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
সূত্র: এনডিটিভি।