রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে ভোরে সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের অষ্টগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত জসিম উদ্দিন অষ্টগ্রামের বলা গাজী বাড়ির মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে। অভাবের কারণে তিনি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পুত্রবধূ মাছুমার সঙ্গে অভিমান করে ভোর ৪টার দিকে জসিম উদ্দিন নিজ এলাকার একটি মসজিদের সামনে কীটনাশক পান করেন। বিষপানের পর তিনি মসজিদের বারান্দায় শুয়ে থাকেন। পরে মসজিদের লোকজন বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানালে তাকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ বিকেলে মৃতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মর্গে পাঠায়৷
পরিবারের দাবি, বিষপানের আগে জসিম উদ্দিন একটি চিরকুট লিখে যান। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি হতভাগা, ছেলের বউয়ের জ্বালায় মরিলাম।’
মৃতের ছেলে হাসান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার বাবা খুবই সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। তার স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান এবং স্ত্রীর তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ সহ্য করতে না পেরেই তার বাবা আত্মহত্যা করেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী কখনো তার বাবাকে যথাযথ সম্মান করতেন না। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার স্ত্রী বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় তিনি তার বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুত্রবধূর সঙ্গে অভিমান করে এক বৃদ্ধ আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ সন্ধ্যায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুত্রবধূ পলাতক রয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগেরভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।