শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Channel18

সারা দেশ

নড়াইলে বেড়িবাঁধের কাজ সাত বছর বিলম্ব! ঝুঁকিতে ৬ হাজার একর জমি

নড়াইলে বেড়িবাঁধের কাজ সাত বছর বিলম্ব! ঝুঁকিতে ৬ হাজার একর জমি

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ছয় হাজার একর জমির ফসল ও বসতবাড়ি মধুমতী নদীর পানিতে বছরের পর বছর প্লাবিত হচ্ছে। এতে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজারো পরিবার। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও সাত বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি। দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশকের ভাঙনে মধুমতী নদীর পাড়ে পাকা সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। বছরের পর বছর নদীর পানি ঢুকে অন্তত ছয় হাজার একর জমির ফসল প্লাবিত হচ্ছে। শুধু ফসলি জমি নয়, ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজারো পরিবার।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০১৯ সালে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল থেকে ঘাঘা চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত (ধলইতলা) ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একনেক সভায় অনুমোদন দেয় তৎকালীন সরকার। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৩৪২ কোটি টাকা।

 

স্থানীয়দের আপত্তি ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০২৩ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন। ২০২৫ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফা সময় বাড়ানো হলেও কাজের অগ্রগতি খুবই ধীর। কিছু অংশে খনন কাজ ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এছাড়া প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ১৬১ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন মাত্র ২৪ জন। বেড়িবাঁধ নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের ফসলি জমি ও বাড়িঘর রক্ষায় দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বলছে, জমির ক্ষতিপূরণ না পেলে কোনোভাবেই তারা কাজ চলতে দেবেন না।

 

এস এ ইউবি জে বি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. মিলন আলী বলেন, বেড়িবাঁধের কাজ নিয়ে আমরা কিছুটা বিপাকে আছি। এখনো পানি উন্নয়ন বোর্ড পুরো জমি আমাদের বুঝিয়ে দেয়নি। কাজ করতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা বলছেন, ক্ষতিপূরণ না পেলে কাজ করতে দেবেন না। এ অবস্থায় কিছু অংশে কাজ করা যাচ্ছে, তবে পুরো জমি বুঝে পেলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

 

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, প্রকল্পটি ২০১৯ সালের হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২২ সাল পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। ২০২৩ সাল থেকে কাজ শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয় বাধা ও জমি জটিলতার কারণে ঠিকাদার নিয়মিতভাবে কাজ করতে পারছেন না। লাল পতাকা দিয়ে জমি চিহ্নিত করা হলেও পরে তা তুলে ফেলা হচ্ছে। সমস্যা সমাধান হলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

 

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হোসনে আরা তান্নি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার জমি চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৪ জন ক্ষতিগ্রস্তকে যাচাই-বাছাই শেষে ক্ষতিপূরণের চেক দেয়া হয়েছে। বাকিদের আবেদন ও কাগজপত্র যাচাই করে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

আরও

পিরোজপুরে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরির ঘটনায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

সারা দেশ

পিরোজপুরে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরির ঘটনায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

পিরোজপুরের নেছারাবাদে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরির ঘটনায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ছাত্রদল নেতা না...

২০২৬-১০-০২ ১৭:৫৭

সাভারে ১২ লাখ টাকার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

সারা দেশ

সাভারে ১২ লাখ টাকার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

ঢাকা জেলার সাভারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. রায়হান ইসলাম (২৮) নামে এক পেশাদার মাদক কারবারিকে গ...

২০২৬-১০-০২ ১৪:২৮

মাগুরায় বাড়ি স্বামীর, স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর পুরুষাঙ্গ গোড়া থেকে কাটার অভিযোগ স্বজনের

সারা দেশ

মাগুরায় বাড়ি স্বামীর, স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর পুরুষাঙ্গ গোড়া থেকে কাটার অভিযোগ স্বজনের

মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নের আজমপুর নতুনপাড়া গ্রামের আবেদ হাসান জয়, গাজীপুরে গুরুতর আহত অবস্থায় আছে। আবেদ হোসেন জ...

২০২৬-১০-০১ ২৩:০৪