রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির স্তর ছিল ১৩ দশমিক ০৬ মিটার। নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম জানান, বর্তমানে লালপুরে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নতুন করে পানি বাড়ার আশঙ্কা নেই বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের পানিবৃদ্ধিতে উপজেলার ঈশ্বরদী, লালপুর ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চল দ্রুত প্লাবিত হয়েছে। এতে চরের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ায় খামারিরাও বিপাকে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক পানিবৃদ্ধিতে প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৩৫ হেক্টর আখক্ষেত, ৭ হেক্টর সবজি এবং ৬০ হেক্টর ফলের বাগান। এতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। বাঁশের মাচায় তোলা সবজি ক্ষেতের শুধু ওপরের অংশ পানির ওপরে দেখা যাচ্ছে। নতুন রোপণ করা মূলা ও বেগুনের ক্ষেতও তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষক নৌকা ও ভেলায় করে ফসল রক্ষার চেষ্টা করলেও পানির তীব্রতায় তা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পানিবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙনও তীব্র হয়েছে। বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওসারা সুলতানপুর এলাকায় পদ্মার ভাঙনে প্রায় ৫০টি বসতঘর এবং বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
দিয়ারশংকরপুর চরের কৃষক মো. আবুল কাশেম বলেন, দুই বিঘা জমির মূলা ও বেগুন পুরোপুরি পানির নিচে চলে গেছে। পানি আরও বাড়লে আরও চার বিঘার ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কাইগিমারি চরের মহিষের খামারি খায়রুল ইসলাম বলেন, চরের জমি ডুবে যাওয়ায় পশুর জন্য ঘাস পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে শুকনো খড় খাওয়াতে হচ্ছে।
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় জানান, পানি কমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবীর হোসেন বলেন, প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। ইতোমধ্যে বিলমাড়িয়ার নওসারা সুলতানপুর চরে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারের মধ্যে ৩০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।