মৃত্যুর আগে গোয়ার একটি ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন নানা পাটেকার। সেখানে হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে তার ছেলে মালহার পাটেকর দ্রুত একটি মেডিকেল টিমকে ফ্ল্যাটে পাঠান। এমনটাই খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
গোয়ার সেই ফ্ল্যাটে যখন চিকিৎসক দল পৌঁছায় তখন অভিনেতাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চিকিৎসা দেয় তারা। পরে দ্রুত তাকে গোয়ার মণিপাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস শেষরক্ষা হয়নি অভিনেতার। স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকেরা নানা পাটেকারকে মৃত ঘোষণা করেন।
মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. শেখর সালকার জানান, প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে টানা সিপিআর দেওয়া হলেও নানা পাটেকারকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
বর্ষীয়ান এই অভিনেতার মৃত্যুর ঘটনাটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারই তার ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত তার মৃত্যুর সঠিক কারণ ও পরিস্থিতি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, নানা পাটেকারের আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকর। ১৯৫১ সালে মহারাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়েছেন। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রজীবন শুরু করেন তিনি।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ‘পারিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘অব তক ছাপ্পান’ ও ‘নটসম্রাট’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন নানা পাটেকার।
অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। শক্তিশালী অভিনয়, স্বতন্ত্র সংলাপ বলার ধরন এবং বহুমুখী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন এই অভিনেতা।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়ায় ভাসছে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গন।