শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থের অপব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বিভাগ ঘুরে দেখার সময় মন্ত্রী বলেন, “আমার দেশের দরিদ্র মানুষ ওষুধ পায় না, আর এখানে লক্ষ লক্ষ টাকার সরকারি ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ে আছে। এমনকি বাথরুমেও সরকারি ওষুধ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
তিনি হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রমে বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখে সিভিল সার্জন, ডেপুটি ডিরেক্টর (ডিডি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে তিনি পার্শ্ববর্তী একটি বেসরকারি ক্লিনিকও পরিদর্শন করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজন অভিযোগ করেন, সরকারি সরবরাহে ওষুধ থাকলেও অনেক সময় তাঁদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বলা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম (৪৫) বলেন, “হাসপাতালে আইলে বলে ওষুধ নাই, বাইরের ফার্মেসি থেইকা কিনতে হবে। অথচ আইজ দেখলাম এত সরকারি ওষুধ পড়ে আছে।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে মোরেলগঞ্জ ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই এ প্রকল্পের দরপত্র (টেন্ডার) কার্যক্রম শুরু হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, “সরকারি হাসপাতালের ওষুধ বিতরণ প্রক্রিয়ায় চরম জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। গুদামে বা বাথরুমে ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া মানে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয়, অন্যদিকে দরিদ্র মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্য অধিকার হরণ। কেবল অবকাঠামো বা শয্যা সংখ্যা বাড়ালেই স্বাস্থ্যখাতের মান ফিরবে না; ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থাকে অবিলম্বে ডিজিটাল ইনভেন্টরি ও ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনতে হবে এবং এ জাতীয় অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।”
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মো. নাসের রিকাবদার, মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।