রোববার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাতে পৌরসভার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কমিটির সভাপতি শহীদুল ইসলামের বসতবাড়ির প্রধান ফটকের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের হেফাজতে নেন।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কৃষ্ণ চন্দ্র ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। আদালত অপরাধের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রশান্ত চৌহান (২৮)-কে ৭ মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা, নূর হাবিব (৩০)-কে ১০ মাসের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা, আসাদুজ্জামান বাবু (২২)-কে ৫ মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা, শামীমুল ইসলাম শামীম (৩১)-কে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা, মো. সোহাগ (২৫)-কে ৫ মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা, মো. হাসমত আলী (৪২)-কে ৪ মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা, রাজীব আলী (২৫)-কে ৫ মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা, সুজন মিয়া (৩২)-কে ৫ মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা, তারা মিয়া (৬৭)-কে ১০ মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা এবং নাজমুল ইসলাম রাজু (৩০)-কে ৪ মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকসেবন ও মাদক কারবারের অভিযোগ ছিল। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে গঠিত মাদকবিরোধী কমিটি নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রাতভর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, "মাদক সমাজের জন্য ভয়াবহ ব্যাধি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের সংসদ সদস্যের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।"
মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, "মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান নিয়মিত চলছে। স্থানীয় জনগণ ও মাদকবিরোধী কমিটির সহযোগিতায় এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।"
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও স্থানীয় সচেতন মহল মাদকবিরোধী এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) জাকির হোসেন বাবলু বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। কোন অবস্থাতেই মাদক বিরোধী আভযানে ঢিলে গতি সহ্য করা হবে না।