একই অনুষ্ঠানে তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবন ও সমাজসেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রকাশিত ‘অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুস সামাদ স্মারক গ্রন্থ’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে ফরিদপুর শিশু একাডেমি সম্মেলনকক্ষে ফরিদপুর গুণীজন মূল্যায়ন ও উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা ও স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী মো. শহিদুল ইসলাম খান বাবুল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহা, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, ফরিদপুর মুসলিম মিশনের সভাপতি আমের ইউসুফ এবং ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির সদস্যসচিব অধ্যাপক শেখ সামাদ।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আজিজুর রহমান। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ফরিদপুর গুণীজন মূল্যায়ন ও উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের উপদেষ্টা ও যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর এ বি এম সাত্তার এবং লেখক ও গবেষক মফিজ ইমাম মিলন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, “আমরা ফরিদপুরবাসী অনেক ভাগ্যবান যে সামাদ স্যারের মতো একজন মানুষের জন্ম হয়েছে। তিনি শত শত এতিমের পিতা, তিনি আমাদের পরিবারের একজন সদস্য। স্যার যেসব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেসব প্রতিষ্ঠানের যে কোনো প্রয়োজনে আমি ও আমার পরিবার পাশে থাকব।”
সম্মানিত অতিথি চৌধুরী মো. শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, “যেখানে গুণীজনদের মূল্যায়ন হয় না, সেখানে গুণীজন জন্মায় না। আমরা অনেক সময় গুণীজনদের যথাযথ সম্মান দিতে পারি না। এই হিংসার শহরে সামাদ স্যার একজন আলোকবর্তিকা।”
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন বলেন, অধ্যাপক সামাদ একজন সাদা মনের মানুষ ও অত্যন্ত মেধাবী ব্যক্তি। অভাব-অনটনের মধ্যেও তিনি কঠোর পরিশ্রম করে লেখাপড়া করেছেন। ফরিদপুর শহরে কেউ মারা গেলে সবার আগে তাঁর বাসায় ছুটে যান অধ্যাপক এম এ সামাদ।
বক্তারা বলেন, অধ্যাপক এম এ সামাদ শুধু একজন শিক্ষক নন; তিনি একজন সমাজসেবক, সাংস্কৃতিক কর্মী, সংগঠক, শিক্ষানুরাগী ও সাহিত্যপ্রেমী। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে তিনি ফরিদপুরের শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
তাঁরা আরও বলেন, অধ্যাপক সামাদ শত শত এতিম ও অসহায় মানুষের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততায় বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায় মানুষের জন্য কাজ করাকে তিনি জীবনের অন্যতম ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, নিজের ভালো কাজের প্রচার কখনো করেননি অধ্যাপক এম এ সামাদ। নীরবে-নিভৃতে মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন তিনি। তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবন, সমাজসেবা, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতেই প্রকাশ করা হয়েছে স্মারক গ্রন্থটি।
পরে অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুস সামাদকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।