শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুরে পদ্মা-গড়াই মোহনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নদীর প্রবাহ ও গতিপ্রকৃতি ঠিক না থাকায় অনেক সময় নদীতীরের বাঁধ ভেঙে বসতবাড়ি, বাজারসহ বিভিন্ন জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে গেলে নদী ও খালের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর প্রভাব পড়ে সুন্দরবনের প্রতিবেশব্যবস্থাতেও।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভায় প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৫ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকার কাজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চে প্রধানমন্ত্রী সরেজমিনে এসে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন বলেও জানান পানি সম্পদমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটির কারিগরি সহায়তা, সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় কাজ করা হয়েছে। ২০০৪ সালে কাজ শুরু হলেও ২০২৬ সালে এসে এসব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
পদ্মা ব্যারেজের সুফল সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, প্রকল্পের আওতায় ১৯টি জেলার আশপাশের উপকারভোগীসহ মোট ২৪ জেলার মানুষ সুবিধা পাবেন। অঞ্চলভেদে মানুষ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন।
প্রকল্পের অবকাঠামো তুলে ধরে তিনি বলেন, মূল পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি পদ্মা ও গড়াইয়ের সংযোগস্থলে নির্মাণ করা হবে গড়াই অফটেক ব্যারেজ। সেখানে মাছের চলাচলের জন্য ফিশ পাস, নৌযান চলাচলের জন্য নেভিগেশন লক এবং পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন গেট ও আন্ডার স্লুইস থাকবে।
ভারতের জন্য পদ্মা ব্যারেজ উদ্বেগের কারণ হবে কি না—এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ভারত বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম দেশ। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রকল্পের কাজ করা হচ্ছে। দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
পরিদর্শনকালে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লাসহ স্থানীয় ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।