বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দীন।
পুলিশ বলছে, ঘটনার সময় ট্রেনে দায়িত্ব পালন করা চার সদস্যকে প্রত্যাহার করে পাকশি রেলওয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অধিকতর তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকালে নাটোর এলাকায় চলন্ত কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ক্যান্টিনে। অভিযোগের পর ট্রেনের ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিককে (২২) আটক করে পুলিশ। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আবু বক্কর নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের মৃত মাসুদ রানার ছেলে।
এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী সোমবার সকালে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওঠেন। একপর্যায়ে তাকে ট্রেনের ক্যান্টিনে নিয়ে গিয়ে আবু বক্কর সিদ্দিকসহ কয়েকজন ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে ট্রেনের অন্য যাত্রীরা ক্যান্টিনের দিকে এগিয়ে যান। পরে তারা আবু বক্করকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। ঘটনার সময় ট্রেনে দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণেই তাদের আপাতত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পাকশি রেলওয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি দুলাল উদ্দীন বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্য অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার বিষয়েও তদন্ত চলছে।
ফলে চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এখন দুটি বিষয় সামনে এসেছে—একদিকে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত, অন্যদিকে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধান। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।