সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ৫৫ বছরেও শিক্ষক সংকট কাটেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে শিক্ষকরা এই বিদ্যালয়ে থাকতে চান না। পদায়নের কিছুদিনের মধ্যেই তারা বদলি নিয়ে চলে যান। ফলে বছরের পর বছর ধরে বিদ্যালয়টি শিক্ষক সংকটে ভুগছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, স্কুলগামী রাস্তার উন্নয়ন এবং বিশেষ ব্যবস্থায় স্থানীয়দের চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
সরেজমিনে জানা যায়, কাগজে-কলমে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার হলেও সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টারও বেশি। চাষাঢ়া থেকে প্রথমে সাইনবোর্ড, পরে কেওঢালা এবং সেখান থেকে অটোরিকশায় করে যেতে হয় কাজহরদী এলাকায়। দীর্ঘ ও দুর্ভোগপূর্ণ এ যাতায়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক সিরাজুল হক বলেন, কেওঢালা থেকে কাজহরদী পর্যন্ত রাস্তার পাশে ১২টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। যাতায়াতে শরীর খারাপ হয়ে যায়। আবার বৃষ্টি হলে রাস্তার অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে পড়ে।
আরেক অভিভাবক কাউছার মিয়া জানান, প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণিতে ৩১৩ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কিন্তু বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষিকা ক্লাস নিচ্ছেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা ক্লাস করাতে গিয়ে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ফলে বিকেলের ক্লাসে শুধু কোনোরকমে পড়া দেওয়া ও নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজালাল মিয়া বলেন, বিদ্যালয়টি সোনারগাঁ উপজেলায় হলেও কাগজে এখনও বন্দর উপজেলার অধীনে রয়েছে। ফলে তদারকির ঘাটতি রয়েছে। আশপাশে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে আর কোনো বিদ্যালয় না থাকায় ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসে।২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রধান শিক্ষক দুলাল মিয়া বদলি হওয়ার পর থেকে এখনও নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সিনিয়র শিক্ষিকা মমতাজ আক্তার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষিকা বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহর,বন্দর ও সোনারগাঁ উপজেলা সদর তিন জায়গা থেকেই এই স্কুলে আসা কষ্টকর। শুকনো মৌসুমে মাসে ছয় হাজার টাকা এবং বর্ষাকালে আট হাজার টাকার বেশি যাতায়াত খরচ হয়। তাই অনেক শিক্ষক এখানে থাকতে আগ্রহী হন না।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ আক্তার বলেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে পর্যাপ্ত শিক্ষক প্রয়োজন। পদ অনুযায়ী শিক্ষক পেতে জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি এ মাসেই সরকারিভাবে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হবে।
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন বলেন, যোগাযোগ সমস্যার কারণে শিক্ষকরা স্কুলটিতে থাকতে চান না। আশপাশেও কোনো স্কুল নেই যেখান থেকে শিক্ষক এনে এখানে দেওয়া যাবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। খুব শিগগিরই স্কুলটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।