মূলত যারা পেনশন ক্রেডিট, ইউনিভার্সাল ক্রেডিট এবং এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট অ্যালাউন্সের মতো সুবিধাগুলো ভোগ করছেন, তাদের লক্ষ্য করেই এই নতুন নিয়ম আনা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলো আইনগতভাবে বাধ্য থাকবে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের সীমিত আর্থিক তথ্য ডিডব্লিউপি-র কাছে হস্তান্তর করতে, বিশেষ করে যেখানে জালিয়াতি বা ভুল তথ্য দিয়ে ভাতা গ্রহণের সন্দেহ থাকবে।
ব্রিটিশ সরকারের দাবি, প্রতি বছর কল্যাণ ভাতা ব্যবস্থায় জালিয়াতি এবং প্রশাসনিক ভুলের কারণে কয়েক বিলিয়ন পাউন্ড অপচয় হয়। নতুন এই ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই বিশাল অংকের অপচয় কমানো সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সিস্টেমের মাধ্যমে ডিডব্লিউপি মূলত গ্রাহকের সঞ্চয় এবং আয়ের পরিমাণ যাচাই করবে। এর ফলে: কেউ নির্ধারিত সীমার বেশি সঞ্চয় লুকিয়ে ভাতা নিচ্ছেন কি না তা শনাক্ত করা যাবে।
প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে তাদের প্রাপ্য সুবিধা পান তা নিশ্চিত করা হবে।
ভুলবশত অতিরিক্ত পেমেন্ট হয়ে গেলে তা দ্রুত শনাক্ত করা যাবে, যাতে গ্রাহককে পরবর্তীতে বড় অংকের ঋণের চাপে পড়তে না হয়।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ যোগ্য প্রবীণ নাগরিক এখনো 'পেনশন ক্রেডিট' সুবিধার আওতায় আসেননি। নতুন এই ডাটা শেয়ারিং পদ্ধতির মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করাও সহজ হবে বলে আশা করছে সরকার।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন মানবাধিকার কর্মী ও অনেক রাজনীতিবিদ। তারা এটিকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। সমালোচকদের মতে, নাগরিকদের আর্থিক জীবনে সরকারের এমন হস্তক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান স্যার জিওফ্রে ক্লিফটন ব্রাউন বলেন, “সরকারের এই পদক্ষেপ জালিয়াতি রুখতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে এটি সাধারণ মানুষের অধিকার ও গোপনীয়তার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুরু থেকেই এই ক্ষমতার কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।”
উদ্ভূত বিতর্কের প্রেক্ষিতে ডিডব্লিউপি-র একজন মুখপাত্র স্পষ্ট করেছেন যে, সংস্থাটি সরাসরি কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। শুধুমাত্র ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট কিছু ফ্ল্যাগ বা সংকেতের মাধ্যমে তথ্য দেবে। এই 'ফ্রড, এরর অ্যান্ড রিকভারি বিল' শুধুমাত্র সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করতেই ব্যবহৃত হবে এবং সাধারণ গ্রাহকদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে জানানো হয়েছে।