শুক্রবার (৮ মে) ঘোষিত নির্বাচনের ফলাফলে ফরহাদ হোসেন ২৫ হাজার ৫৩৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ মির্জা পান ২০ হাজার ২৩৪ ভোট। প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পাওয়া ফরহাদ সদ্য বিদায়ী মেয়র রোকসানা ফিয়াজের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। রোকসানা টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
যুক্তরাজ্যজুড়ে লেবার পার্টি যখন গ্রিন পার্টি ও রিফর্ম ইউকের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তখন পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যামে ফরহাদের এই জয় দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিলেটের শিকড় থেকে উঠে আসা ফরহাদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিউহ্যামের প্রশাসনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্লাস্টো নর্থের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া অপরাধ দমন, অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ এবং বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পোর্টফোলিওর দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
রাজনীতির পাশাপাশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন ফরহাদ। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন সামাজিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার কারণে এলাকায় পরিচিতি গড়ে ওঠে তার।
নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় সেবার উন্নয়ন, কমিউনিটি সম্প্রীতি এবং তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বিজয়ী ঘোষণার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, “এটি এই বারার জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। নিউহ্যাম আমাকে আজ এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, আর সেই বারার মেয়র নির্বাচিত হওয়া আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান। গণতন্ত্র তখনই সার্থক হয় যখন সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে সেবা করার সুযোগ পায়।”
সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এই বিজয় পুরো কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয়। তিনি সকল সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
আগামী মঙ্গলবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে শক্তিশালী ও কার্যকর একটি ক্যাবিনেট গঠন, যাতে আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা যায়।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে মনে করছেন, ফরহাদ হোসেনের এই অর্জন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণে উৎসাহ যোগাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিজয় শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও সামাজিক সম্পৃক্ততারও স্বীকৃতি।