রিফর্ম ইউকে-এর লক্ষ্য হলো ক্ষমতায় আসার ১৮ মাসের মধ্যে প্রায় ২৪ হাজার অভিবাসীকে বিশেষ রিমুভাল সেন্টারে আটকে রাখা এবং পর্যায়ক্রমে তাদের ব্রিটেন থেকে বের করে দেওয়া। দলটির হোম অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ জানান, গ্রিন পার্টি যেহেতু ঐতিহাসিকভাবে 'ওপেন বর্ডার্স' বা উন্মুক্ত সীমান্ত নীতির সমর্থক, তাই তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতেই এসব কেন্দ্র স্থাপন করা যৌক্তিক ও ন্যায্য।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রিফর্ম ইউকে-এর নিজস্ব এমপি বা স্থানীয় কাউন্সিল রয়েছে এমন এলাকায় কোনোভাবেই এসব ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করা হবে না।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বর্তমানে রিফর্ম ইউকে-এর আটজন এমপি রয়েছেন, যাদের মধ্যে সাবেক কনজারভেটিভ নেতা রবার্ট জেনরিক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্র্যাভারম্যানের মতো হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন। দলটির এই কঠোর অভিবাসন নীতি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অভিবাসী বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, গ্রিন পার্টি এই প্রস্তাবকে 'ঘৃণ্য ও অমানবিক' বলে আখ্যা দিয়েছে। দলটির মতে, মূল সমস্যাগুলো থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতেই এমন বিতর্কিত ও উসকানিমূলক নীতি সামনে আনা হচ্ছে। গ্রিন পার্টি একটি মানবিক ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থার পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বর্তমানে গ্রিন পার্টির শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে এমন এলাকাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ব্রিস্টল সেন্ট্রাল (Bristol Central)
ব্রাইটন প্যাভিলিয়ন (Brighton Pavilion)
ম্যানচেস্টারের গোর্টন অ্যান্ড ডেনটন (Gorton and Denton)
নর্থ হেয়ারফোর্ডশায়ার (North Herefordshire)
ওয়েভনি ভ্যালি (Waveney Valley)
আগামী ৭ মে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দলই স্থানীয় কাউন্সিলে বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার চেষ্টা করছে, আর অভিবাসন ইস্যু এই লড়াইয়ে প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।