ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ব্রিটেনের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংস কলেজ লন্ডন এবং ক্র্যানফিল্ড ইউনিভার্সিটি একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত গত কয়েক বছরে যুক্তরাজ্যের ভিসা নীতি কঠোর করা, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ডিপেন্ডেন্ট ভিসা সীমিত করার পর থেকেই দেশটিতে বিদেশী শিক্ষার্থীর আগমন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের ওপর, কারণ বিদেশী শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি-ই অনেক প্রতিষ্ঠানের আয়ের প্রধান উৎস।
হায়ার এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকস এজেন্সি (HESA)-এর উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আয়ের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত আসে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফি থেকে। বিশেষ করে রাসেল গ্রুপভুক্ত এবং গবেষণা-নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে এই নির্ভরশীলতা আরও অনেক বেশি। এর পাশাপাশি নতুন অভিবাসন নিয়ম এবং ক্রমবর্ধমান কর্মী নিয়োগ ব্যয়ের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন খরচ পূর্বের তুলনায় অনেক বেড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে বিভিন্ন কোর্স বন্ধ করতে, কর্মী ছাঁটাই করতে এবং বাজেট সংকুচিত করতে বাধ্য হয়েছে।
এই সংকটে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্র্যানফিল্ড ইউনিভার্সিটি, কারণ এটি একটি পোস্ট-গ্রাজুয়েট বা স্নাতকোত্তর-নির্ভর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতি বছরই নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির ওপর প্রতিষ্ঠানটিকে বিপুলভাবে নির্ভর করতে হয়। ফলে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রায় ৮ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল বাজেট ঘাটতির মুখে পড়ে। এই ধারাবাহিক আর্থিক লোকসান ও শূন্যতা কাটিয়ে উঠতেই কিংস কলেজ লন্ডনের সাথে একীভূত হওয়ার কৌশলগত পথ বেছে নিয়েছে ক্র্যানফিল্ড ইউনিভার্সিটি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুই স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এই একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত কেবল কোনো সাধারণ একাডেমিক পদক্ষেপ নয়। বরং যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির মাধ্যমে পরিচালন ব্যয় কমানো, আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা এবং বৈশ্বিক শিক্ষার্থীদের পুনরায় আকর্ষণ করার একটি সময়োপযোগী কৌশল। সামগ্রিকভাবে এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, কঠোর অভিবাসন নীতি এবং বৈশ্বিক শিক্ষার্থী প্রবাহের পরিবর্তন কীভাবে যুক্তরাজ্যের উচ্চ শিক্ষা খাতকে এক বাস্তব ও অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।