শুক্রবার (১৫ মে) এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন রুবিও। এ সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীন সফরে ছিলেন।
সফরে দুই দেশের মধ্যে ইরান যুদ্ধ, বাণিজ্য বিরোধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিযোগিতা এবং তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনার সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ানকে “চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিষয়টি সঠিকভাবে সামাল দিতে ব্যর্থ হলে দুই দেশ “সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি সরাসরি সংঘর্ষেও যেতে পারে।”
এর জবাবে মার্কো রুবিও বলেন, “তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে। আমরা জানি চীনের অবস্থান কী, এবং তারাও জানে আমাদের অবস্থান কী।”
চীন যদি সামরিক শক্তি ব্যবহার করে তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে, সে বিষয়ে রুবিও বলেন, “এটা হবে একটি ভয়াবহ ভুল। বলপ্রয়োগ করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।”
তিনি আরও বলেন, এমন পদক্ষেপের প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পুরো বিশ্বকে ভোগ করতে হবে।
তবে রুবিও স্বীকার করেন, চীন শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাইওয়ানকে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করতে চায়। তার ভাষায়, বেইজিং “আদর্শ পরিস্থিতিতে ভোট বা গণভোটের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় পুনর্মিলন” প্রত্যাশা করে।
এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের “স্ট্র্যাটেজিক অ্যামবিগুইটি” বা কৌশলগত অস্পষ্টতার নীতির কথাও উল্লেখ করেন। এই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানায় না যে, সামরিকভাবে তাইওয়ানকে রক্ষা করবে কি না।
তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, এটি সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-চীন আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল না। ভবিষ্যতে অস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্ত অনেকাংশে মার্কিন কংগ্রেসের ওপর নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র “এক চীন নীতি” স্বীকার করে, তবুও তাইওয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে ওয়াশিংটনের প্রশাসন।