ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই আন্তঃরাজ্য আলু রপ্তানির ওপর আগের প্রশাসনের জারি করা নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নিয়েছে। শুধু আলু নয়, পেঁয়াজ, খাদ্যশস্য, তেলবীজ, ফল, সবজি ও পশুপণ্য পরিবহনেও আর কোনও বাধা থাকবে না।
এ বিষয়ে জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আলুসহ কোনও কৃষিপণ্য অন্য রাজ্যে পাঠানো বা রপ্তানির ক্ষেত্রে আর কোনও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে না।
রাজ্য সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগের সরকারের নীতির কারণে কৃষকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল। নতুন সরকার সেই অবস্থার অবসান ঘটিয়েছে। আন্তঃরাজ্য সীমান্তে কৃষি ও পশুপণ্য পরিবহনে কাউকে বাধা দেওয়া বা হয়রানি করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষিনির্ভর জেলাগুলোতে বড় ধাক্কা খেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র দল তৃণমূল কংগ্রেস। হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পূর্ব বর্ধমানের ২৫টি আসনের মধ্যে এবার ২১টিতে জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলু রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং কৃষকদের আর্থিক ক্ষোভ নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।
ওয়েস্ট বেঙ্গল কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শুভজিৎ সাহা বলেন, আগের সরকারের নির্দেশনার কারণে কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা আলু মজুত করতেও আতঙ্কে ছিলেন। এতে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন এবং বহু আলু মাঠেই নষ্ট হয়ে যায়।
তার দাবি, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন আলুর মজুত রয়েছে, যা দ্রুত অন্য রাজ্যে পাঠানো প্রয়োজন। চলতি মৌসুমে কৃষকরা উৎপাদনে কঠোর পরিশ্রম করেও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে শুক্রবার (১৫ মে) কলকাতার খাদ্য ভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।