১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালককে ‘সত্যিই বিশেষ কিছু’ বলেছেন শচীন। একই সঙ্গে তার সহজাত প্রবৃত্তি নিয়ে না খেলতে সতর্ক করেছেন তিনি। মুম্বাইয়ে ক্রিকইনফো অনার্স-এ একবিংশ শতাব্দির সেরা পুরুষ আন্তর্জাতিক ব্যাটার বললেন, ‘সবাই সূর্যবংশীকে নিয়ে কথা বলছে। আমি তাকে ব্যাট করতে দেখেছি—এটা ছিল অসাধারণ। আমার মতে সে সত্যিই বিশেষ কিছু। শুধু বল মারার ক্ষমতাই নয়, তার কব্জির মোচড়ও আমাকে মুগ্ধ করেছে।’
শচীন আরও বললেন, ‘মাঠের সবদিকে খেলতে হলে কব্জির ভালো কাজ দেখাতে হয়। সে বল স্লগ করছে না, অন্যদের চেয়ে আগেভাগে লাইন-লেন্থ বুঝে নিচ্ছে এবং অনায়াসে দড়ির ওপারে বল পাঠাচ্ছে।’
এবারের আইপিএলে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন সূর্যবংশী। রাজস্থানের হয়ে ২৩৭.৩১ স্ট্রাইক রেটে ৭৭৬ রান করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে ৭২ ছক্কায় এক আসরে ক্রিস গেইলের (৫৯) সর্বোচ্চ ছয়ের রেকর্ড ভেঙেছেন।
সূর্যবংশীকে টেস্ট ক্রিকেটেও দেখতে চান শচীন। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে নয়। তাকে ক্রমাগত চাপে না রেখে উৎসাহিত করে যাওয়া ও সমর্থন দিতে তিনি অনুরোধ করেছেন সবাইকে।
তিনি বললেন, ‘আমি তাকে শুধু তার মতো থাকতে বলব। সবকিছুরই প্রথমবার আছে। টেস্ট ক্রিকেটে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করাও শিখবে। (বিষয়টা হলো) সমাধানকেন্দ্রিক মানসিকতা থাকা। সমস্যা সবসময় থাকবে। তোমার ক্যারিয়ারের শেষ দিন পর্যন্ত সমস্যা থাকবে, একেবারে শেষ বল পর্যন্ত। প্রত্যেক বলে প্রশ্ন করছে বোলার, এখন কী সমাধান খুঁজবেন? সে এমন একজন খেলোয়াড় যাকে দেখতে আত্মবিশ্বাসী মনে হয়, সে কী করতে চায় সে ব্যাপারে খুবই নিশ্চিত এবং আমি তার সহজাত প্রবৃত্তিকে নিয়ে ছেলেখেলা করতে চাইব না।’
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সূর্যবংশী বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবেলা করতে হয়, সেটা শিখে যাবে বললেন ২০০ টেস্ট খেলা শচীন, ‘সে যেভাবে বলটা দেখে এবং সেটার প্রতি যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেই সংকেতে যদি বাধা আসে, বা তাকে নানা কথা বলে এর মাঝে অনেক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়, সেখানেই আসল চ্যালেঞ্জটা তৈরি হবে। আমি তাকে তার নিজের মতো করে ব্যাট করার স্বাধীনতা দেব। সময়ের সাথে সাথে, সে খেলার অন্যান্য চ্যালেঞ্জের সাথে মানিয়ে নিতে শিখে যাবে।’
জাতীয় দলে সূর্যবংশীকে ডাকা প্রসঙ্গে শচীন বললেন, ‘শুধু আমি নই, সবাই একটা পর্যায়ে তাকে (টেস্ট ক্রিকেট খেলতে) দেখতে চাইবে। আমি জানি না সেটা কবে হবে। কিন্তু একজন সম্ভাবনাময় প্রতিভার উৎসাহ প্রয়োজন। আর সে যদি ভালো করে, তাহলে আমাদের তাকে উৎসাহিত ও সমর্থন করতে হবে এবং সর্বোপরি খেলাটা উপভোগ করতে হবে। তার ওপর ক্রমাগত চাপ দেওয়া যাবে না যে, তাকে এটা খেলতে হবে, বা এটা করা উচিত নয়, বা তাকে যেকোনো স্কোয়াডে নেওয়া উচিত। এই দায়িত্বটা তাদের ওপর ছেড়ে দিন (নির্বাচকদের ওপর), যারা এর দায়িত্বে আছে।’