ফিফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেবে ৪৮টি দল। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২২ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ৩২ দলের ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হলেও এবার প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের পরিধিও অনেক বড় হয়েছে।
৪৮টি দলকে ভাগ করা হয়েছে ১২টি গ্রুপে। প্রতিটি গ্রুপে থাকবে চারটি করে দল। গ্রুপ পর্ব শেষে প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলও নকআউট পর্বে জায়গা করে নেবে। অর্থাৎ শেষ ষোলো নয়, এবার নকআউট যাত্রা শুরু হবে ৩২ দলের লড়াই দিয়ে।
নতুন ফরম্যাটের কারণে ম্যাচের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে যেখানে মোট ৬৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপে হবে ১০৪টি ম্যাচ। ফলে এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতায় পরিণত হতে যাচ্ছে।
আরেকটি বড় বিশেষত্ব হলো আয়োজন। এই প্রথম তিনটি দেশ যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো মিলে আয়োজন করবে ২০২৬ সালের আসর। এর মধ্যে মেক্সিকো নতুন এক রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। দেশটি এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল। ২০২৬ সালে তৃতীয়বারের মতো আয়োজক হয়ে বিশ্ব ফুটবলে অনন্য কীর্তি গড়বে তারা।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। আর ১৯ জুলাই ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে আসরের। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এবারের বিশ্বকাপ দেখার সময়সূচিও কিছুটা ভিন্ন হবে। উত্তর আমেরিকায় টুর্নামেন্ট হওয়ায় বেশিরভাগ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের রাত ও ভোরের সময়ে। বাংলাদেশ সময় সম্ভাব্য ম্যাচ শুরুর সময়গুলো হবে রাত ১০টা, রাত ১টা, ভোর ৪টা এবং ভোর ৭টা। বিশেষ করে নকআউট পর্ব ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো রাত ১টা এবং ভোর ৪টার সময় বেশি দেখা যেতে পারে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা। লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং নেইমারের জন্য এটি সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে তাদের ঘিরে বাড়তি আগ্রহ থাকছে সমর্থকদের মধ্যে। একই সঙ্গে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে নামবে, আর ২৪ বছরের অপেক্ষা ঘোচাতে মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন হিসেবে ইতোমধ্যেই বিশেষ মর্যাদা পেয়ে গেছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। নতুন ফরম্যাট, বেশি দল, বেশি ম্যাচ এবং তিন দেশের যৌথ আয়োজন; সব মিলিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এক নতুন যুগের সূচনা দেখার অপেক্ষায় এখন গোটা বিশ্ব।