বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশে এক ধরনের উৎসব শুরু হয়। ২০২২ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), টি স্পোর্টস ও জিটিভি সরাসরি ম্যাচ সম্প্রচার করেছিল। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও ছিল লাইভ দেখার সুযোগ। ফলে দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর জন্য বিশ্বকাপ দেখা ছিল সহজ। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে এবার চিত্র একেবারেই ভিন্ন।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো টেলিভিশন চ্যানেল বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব অর্জনের ঘোষণা দেয়নি। ফলে বিশ্বকাপের ঠিক আগে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
জটিলতার মূল কারণ সম্প্রচারস্বত্বের উচ্চমূল্য। বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপের মিডিয়া স্বত্ব কিনেছিল সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক। কিন্তু তারা যে মূল্য দাবি করেছিল, তা দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর কাছে অত্যন্ত ব্যয়বহুল মনে হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় কোনো প্রতিষ্ঠানই স্বত্ব কিনতে আগ্রহ দেখায়নি।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নিতে হয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এবং বিটিভির প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিশ্চিত করার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
তবে আশার খবরও আছে। কয়েকদিন আগে স্প্রিংবক তাদের স্বত্ব চুক্তি বাতিল করেছে। ফলে এখন বাংলাদেশের সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনা করে তুলনামূলক কম মূল্যে স্বত্ব কিনতে পারবে। এতে নতুন করে দর-কষাকষির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই জানতে চাইছেন, তাহলে কি বিটিভি, টি স্পোর্টস বা অন্য কোনো চ্যানেল শেষ মুহূর্তে এগিয়ে আসবে?
এ মুহূর্তে তার কোনো নিশ্চিত উত্তর নেই। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, বড় ক্রীড়া আসরের আগে শেষ মুহূর্তেও সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার নজির রয়েছে। তাই সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
দর্শকদের আরেকটি উদ্বেগের জায়গা ম্যাচের সময়সূচি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হওয়া এবারের বিশ্বকাপের বেশিরভাগ ম্যাচ বাংলাদেশ সময় গভীর রাত, মধ্যরাত কিংবা ভোরে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে বিজ্ঞাপন আয় নিয়েও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। সম্প্রচার স্বত্ব কেনার ক্ষেত্রে এটিও বড় একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি অবশ্য একেবারে ব্যতিক্রম নয়। ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশেও সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তা ছিল। এখনও কিছু বাজারে চূড়ান্ত সম্প্রচারকারী নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।
ফলে আপাতত বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই। আর্জেন্টিনার মেসি, ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস, পর্তুগালের রোনালদো কিংবা ফ্রান্সের এমবাপ্পেদের খেলা দেখার জন্য দেশের কোটি দর্শক এখন তাকিয়ে আছে টেলিভিশন চ্যানেল ও সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের ঘোষণার দিকে।
বিশ্বকাপের উত্তেজনা শুরু হয়ে গেছে অনেক আগেই। বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পর্দায় বিশ্বকাপ পৌঁছে দেবে কে? অপেক্ষা করতে হবে কিছুদিন হয়তো। সেই উত্তরই খুঁজছে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।