বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় নড়িয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সুরেশ্বর দরবার শরীফ মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন দরবারের গদীনশীন পীর সৈয়দ বেলাল নূরী আল সুরেশ্বরী। এতে শরীয়তপুর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হাজারো ভক্ত-অনুরাগী অংশ নেন।
দরবার সূত্রে জানা গেছে, সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারীরা ১৯২৮ সাল থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও দুই ঈদ উদযাপন করে আসছেন। তাদের বিশ্বাস, বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলেই ইসলামী মাস গণনা শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও তারা আগাম ঈদ উদযাপন করেছেন।
ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দরবার এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং সেমাই, পায়েসসহ বিভিন্ন খাবার বিতরণ করেন। স্থানীয়দের দাবি, বংশপরম্পরায় তারা এ ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে আসছেন।
দরবার কর্তৃপক্ষ জানায়, শরীয়তপুরের ছয় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এ রীতি প্রচলিত রয়েছে। অতীতের মতো এবারও কয়েকটি গ্রামে সীমিত পরিসরে কোরবানির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বগুড়া, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও চাঁদপুরের কয়েকটি এলাকাতেও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বুধবার ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া ভক্ত ইব্রাহিম হোসেন বলেন, “বাপ-দাদার সময় থেকেই আমরা এ নিয়মে ঈদ পালন করে আসছি। ছোটবেলা থেকেই গ্রামের মানুষকে একসঙ্গে আগাম ঈদের জামাতে অংশ নিতে দেখেছি। এবারও পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছি।”