এসব দুর্ঘটনায় আরও একজন ট্রাকচালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বুধবার (২৭ মে) ভোররাত ও সকালে কাহালু এবং নন্দীগ্রাম উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে রাত ১টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের ভ্যাপরা এলাকায় নিউ হোপ ফিড মিলের সামনে। নিহত মো. রবিউল আউয়াল ওরফে জিয়া (৪২) দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার তরত বাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি ওই ফিড মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং কারখানার ভেতরেই থাকতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের শিফট শেষে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির অজ্ঞাত একটি গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক যানটি পালিয়ে যায়।
কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘাতক গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
অন্যদিকে, সকাল সোয়া ৬টার দিকে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার ফোকপাল রাস্তায় ঘটে আরেকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এতে নিহত হন ট্রাকের সহকারী ইনজামাম (২০)। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খড়াশনি গ্রামের ইজ্জত আলীর ছেলে। গুরুতর আহত হন ট্রাকচালক শামীম শেখ (৩৫)।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, বগুড়া থেকে নাটোরগামী বালুভর্তি একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি বালুভর্তি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় চলন্ত ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালক ও হেলপার কেবিনের ভেতরে আটকা পড়েন।
খবর পেয়ে নন্দীগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাদের বের করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইনজামামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত চালক শামীম শেখ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক দুটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একই দিনে পৃথক দুই সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পরিবারের স্বপ্ন থেমে যাওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কে বেপরোয়া গতি ও অসতর্ক চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে।