পরকীয়া সম্পর্ক গোপন রাখতে পরিকল্পিতভাবে দেবর শাহ আলমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের ভাবি মোছা. আরিফা বেগম (৩২) ও তার প্রেমিক মো. শাহীন শেখ ওরফে সায়েমকে (৩২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর আদালতে দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে সকালে দোবিলা গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় শাহ আলমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরদিন ১৭ মে শিবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এরপর বগুড়া জেলা পুলিশের তৎপরতায় শুরু হয় রহস্য উদঘাটনের অভিযান। পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ-এর নির্দেশনায় এবং সহকারী পুলিশ সুপার (শিবগঞ্জ সার্কেল) মোঃ রবিউল ইসলাম-এর তত্ত্বাবধানে ওসি মোঃ শাহীনুজ্জামান-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম তদন্তে নামে। একপর্যায়ে প্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ২৫ মে দিবাগত রাতে শিবগঞ্জের সংসারদিঘি গ্রাম থেকে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যার পেছনের ভয়ংকর কাহিনি। নিহত শাহ আলমের বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক দীর্ঘদিন কাজের জন্য বাড়ির বাইরে থাকতেন। সেই সুযোগে তার স্ত্রী আরিফা বেগমের সঙ্গে স্থানীয় যুবক শাহীন শেখ ওরফে সায়েমের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি বুঝতে পেরে দেবর শাহ আলম একাধিকবার ভাবিকে সতর্ক করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে পরকীয়ায় জড়িত দুজন।
ঘটনার রাতে প্রেমিক শাহীন গোপনে আরিফার বাড়িতে আসে। রাত গভীর হলে বিষয়টি টের পান শাহ আলম। হাতে হাসুয়া নিয়ে তিনি বাড়ির উঠানে পায়চারি করতে থাকেন। পরে আরিফা তার প্রেমিককে বাড়ির পশ্চিম পাশের গেট দিয়ে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার চেষ্টা করলে শাহ আলম তাদের হাতেনাতে দেখে ফেলেন।
এ সময় আরিফা প্রেমিককে পালাতে বললে শাহীন হঠাৎ শাহ আলমের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। একপর্যায়ে আরিফা দেবরকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে শাহীন পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু শাহ আলম হাসুয়া হাতে তাকে ধাওয়া করেন। দৌড়ে পালানোর সময় ধানের জমিতে পড়ে যায় শাহীন। তখন শাহ আলম আঘাত করতে গেলে শাহীন উল্টো তার হাত থেকে হাসুয়া ছিনিয়ে নেয় এবং নির্মমভাবে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপাতে থাকে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মারা যান শাহ আলম।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হলেও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। দ্রুত সময়ে হত্যার রহস্য উন্মোচন ও আসামিদের গ্রেফতার করায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকাবাসী শিবগঞ্জ থানা পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।