অন্যদিকে, এর মাত্র চারদিন আগে সিরাজদীখানের খাসকান্দি মদিনা পাড়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে তার সৎ মামা।
দুটি ঘটনাই ছিল চরম নৃশংস এবং দুটি পরিবারই হারিয়েছে তাদের সন্তান। তবে এই দুই হত্যাকাণ্ডের পর সমাজের, জনপ্রতিনিধিদের ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া যেন তৈরি করেছে এক চরম বৈষম্যের গল্প। যা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা। রামিসা ছিল পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। এই হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভের ঝড়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহত রামিসার পরিবারের খোঁজ নেওয়ার পর ঘটনাস্থল ও সিরাজদীখানের গ্রামের বাড়িতে ভিড় বাড়তে থাকে রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের। সমবেদনা ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সেখানে ছবি ও ভিডিও ধারণের হিড়িক পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অথচ এর ঠিক চারদিন আগে, অর্থাৎ ১৬ মে সিরাজদীখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি মদিনা পাড়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে তার সৎ মামা রাজা মিয়া। আছিয়া ছিল চর খাসকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার পর এলাকাবাসী অভিযুক্ত রাজা মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
কিন্তু রামিসার ঘটনায় দেশ উত্তাল হলেও আছিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়ায়নি তেমন কেউ। খাসকান্দির সেই ছোট্ট বাড়িতে দেখা যায়নি কোনো জনপ্রতিনিধি, এমপি কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ভিড়।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, দুটি শিশুই নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হলো। দুজনই একই উপজেলার সন্তান। তাহলে এক ঘটনায় দেশ কাঁপবে, আর অন্য ঘটনায় প্রশাসন ও সমাজ নীরব থাকবে কেন?
এদিকে আছিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে উঠেছে দায়িত্বে অবহেলা ও অর্থ দাবির গুরুতর অভিযোগ। আছিয়ার বাবা কাতার প্রবাসী আনোয়ার হোসেন মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে দেশে ফিরে এসেছেন।
তিনি বলেন, এখনও আমার মেয়ের ডিএনএ টেস্ট করা হয়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহ আলীর সঙ্গে কথা বললেই তিনি ইনিয়ে-বিনিয়ে টাকা চান। ডিএনএ টেস্টের তাগিদ দিলে তিনি আমাদের কাছে গাড়ি ভাড়ার টাকা দাবি করেন।
নিহত আছিয়ার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়েকে যে হত্যা করেছে তার ফাঁসি চাই। আমরা অত্যন্ত অসহায় মানুষ। আমার স্বামী ঋণ করে কাতার গিয়েছিলেন, মেয়ের খবর শুনে সব ফেলে চলে এসেছেন। এখন মেয়ের বিচার চাইতে গেলে উল্টো আমাদের কাছে টাকা চাওয়া হয়। যেখানে আমাদের নিজেদেরই খেয়ে-পরে চলার সামর্থ্য নেই।
অর্থ দাবির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিরাজদীখান থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) শাহ আলী বলেন, ঈদের ছুটির পর ডিএনএ টেস্ট করানো হবে। এছাড়া আরও কিছু আলামত রয়েছে, সেগুলো মিলে গেলে যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
তবে টাকা চাওয়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
সিরাজদীখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান জানান, আছিয়া হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ডিএনএ ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলেই আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে। ঈদের ছুটির কারণে ল্যাব বন্ধ থাকায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে, তবে ঈদের পরপরই কাজ সম্পন্ন হবে।