গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মালিপাড়া পূর্বপাড়ার জিল্লুর রহমানের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ (৩০), কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে মো. শাহজাদা মিয়া এবং একই এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম। পুলিশ জানিয়েছে, শাহজাদা মিয়ার বিরুদ্ধে একটি চুরি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
বগুড়া জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে মেহেদী হাসান তার বাবাকে চিকিৎসক দেখাতে শজিমেক হাসপাতালে যান। জরুরি বিভাগের সামনে মোটরসাইকেল রেখে তিনি হাসপাতালের সপ্তম তলায় ওঠেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিকেল ৪টার দিকে নিচে এসে দেখতে পান, সেখানে রাখা তার মোটরসাইকেলটি নেই। পরে খোঁজ করেও মোটরসাইকেলটির সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। এ ঘটনায় ১৭ সেপ্টেম্বর বগুড়া সদর থানায় মামলা করা হয়।
মামলার তদন্তে নেমে ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ফ্লাইওভারের নিচ থেকে আরিফুল ইসলামকে আটক করে ডিবি। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ শজিমেক হাসপাতালের সামনে থেকে মোটরসাইকেলটি চুরির পর শাহজাদা মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলমের কাছে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন।
এরপর আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বালাহাট বাজারের মাংস হাটি এলাকা থেকে শাহজাদা মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুসরণ করে ফুলবাড়ী বাজারের ব্র্যাক মোড়সংলগ্ন একটি মেকানিকের দোকান থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর আলমের হেফাজত থেকে শজিমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে চুরি হওয়া বাজাজ ডিসকভার ১১০ সিসির মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
তবে তদন্তে সেখানেই থেমে থাকেনি ডিবি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ফুলবাড়ীর বালারহাট বাজারে তাপসের দোকানের সামনে পাকা রাস্তা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় আরও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলা তদন্ত করতে গিয়ে তিনজনের গ্রেপ্তার এবং একই অভিযানে মোট তিনটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের ঘটনায় বগুড়া থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত মোটরসাইকেল চোর চক্রের সম্ভাব্য বিস্তৃত নেটওয়ার্কের বিষয়টি সামনে এসেছে। উদ্ধার হওয়া অপর দুটি মোটরসাইকেল কীভাবে সেখানে পৌঁছেছে এবং এগুলোর সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা কী—এসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।