গতকাল শুক্রবার কুমার নদে এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৮টি নৌকা অংশ নেয়। বাইচ শেষে অংশ নেওয়া প্রতিটি নৌকাকে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে উপহার দেওয়া হয়।
নৌকা বাইচ দেখতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর আবার নৌকা বাইচ হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাইচ দেখতে এসেছি। এই ঐতিহ্য যেন প্রতিবছর আয়োজন করা হয়, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
দীর্ঘ নয় বছর পর কুমার নদে নৌকা বাইচ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। নদীর তীরে দাঁড়িয়ে অনেকে নৌকার প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এ উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন।
নৌকা বাইচ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি বলেন, ‘আজকের এই উৎসব বিএনপির নয়, এই উৎসব ভাঙ্গাবাসীর, এই উৎসব ফরিদপুরবাসীর। আমরা সকলে মিলে উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করব, আমরা সবাই মিলেমিশে চলতে পারি।’
শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে বিগত সরকারের সময় এ উৎসব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এতে সাধারণ মানুষ উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। সাধারণ মানুষের কোনো উৎসব বন্ধ হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। তিনি বলেন, ‘শতবর্ষী এই উৎসব কেন বন্ধ হয়েছিল, আপনারা তা জানেন। শহিদুল ইসলাম বাবুল আপনাদের সেই উৎসব আবার ফিরিয়ে দিয়েছেন।’
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, যেকোনো উৎসব বাঙালি সংস্কৃতির অংশ। এসব উৎসব এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, বিশ্বকর্মা পূজাকে ঘিরে ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আয়োজন করা হবে। এতে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা নৌকা বাইচের ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে।