জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এবার জেলার ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে মোট ২৮ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসলের চাষ করা হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও শিলাঝড়ে ৫১৭.৫ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয় এবং ২৯৬ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এতে ৩ হাজার ২২.৮২ মেট্রিক টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা।
সরেজমিনে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তার চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, ধু-ধু বালুচরে এখন সবুজের সমারোহ। বাদাম, চিনা, তিল, তিসি, পেঁয়াজ, রসুন আর মরিচ ক্ষেতে ছেয়ে আছে চারদিক। তবে এই সবুজের মাঝেই লুকিয়ে আছে কৃষকের হাহাকার। চর গতিয়াসামের কৃষক আব্দুল আজিজ (৭০) বলেন, "প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ করে ৯ শতক জমিতে মরিচ লাগিয়েছি। শিলাবৃষ্টিতে অনেক গাছ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এখনো খরচের টাকাই তুলতে পারিনি।" তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম আক্ষেপ করে জানান, আশা ছিল মরিচ বিক্রি করে সংসারের অভাব মেটাবেন, কিন্তু বাজারে এখন মরিচের দাম মাত্র ৬০০ টাকা মণ। এই দামে বিক্রি করলে বড় লোকসান গুনতে হবে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর জেলায় ১ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ৮২০ হেক্টর জমির মরিচ তুলে কৃষকরা ভালো দাম পেয়েছিলেন। তবে মাঝপথে দুর্যোগের কারণে গাছের ক্ষতি হয় এবং বাজারে একসাথে প্রচুর মরিচ আসায় হঠাৎ দরপতন ঘটে।
এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন নাহার সাথী বলেন, তিস্তার চরাঞ্চলে ফসলের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছু ক্ষতি হলেও যে পরিমাণ ফসল এখনো মাঠে আছে, তাতে কৃষকরা সঠিক পরিচর্যা ও বাজারজাত করতে পারলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আমরা আশা করছি।