বুধবার (৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভুল্লী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে ভুল্লী কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনে আমাদের নেতাকর্মীরা রাতে ঘুমাতে পারতো না। পালিয়ে বেড়াতো, ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকতো। শীতের দিনে গাছের ওপর লুকিয়ে থাকতো। কারাগারে নির্যাতন করা হতো। আমরা ভুলিনি সেই সব কথা, এই অবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আজ আমরা এখানে এসেছি।
তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত, ফ্যাসিস্ট লুটেরা আমাদের সমস্ত ব্যাংক লুট করে নিয়ে চলে গেছে। লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। আমাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের কথা, কেউ ভোট দিতে পারেনি। আগের রাতেই ভোট হয়ে গিয়েছিল। এবারো তো নির্বাচন হলো, এ নির্বাচনে কোনো কারচুপি হয়েছে? জনগণ ইচ্ছামতো ভোট দিয়েছে। জনগণ এবার বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছে এবং দুই-তৃতীয়াংশ আসনের বেশি ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে, ২১৩টি আসনে। একটা দল এমন অবস্থা তেরি করেছিল, বলে যে বিএনপি নাই, তারেক রহমান নাই, আল্লাহর কী অশেষ রহমত দেখেন- মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক। মানুষ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যারা বিএনপি করেন তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। জনগণ আপনাদের ওপর আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার মূল্য আপনাদের দিতে হবে। আপনাদের কর্মকাণ্ডে তা প্রতিফলন করতে হবে। জনগণের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বাংলাদেশে একটা সুন্দর সুষ্ঠু সহনশীল গণতান্ত্রিক রাজনীতি চাই। আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের কর্মকাণ্ড করতে দিতে চাই, তাদের বক্তব্য রাখতে দিতে চাই, জনগণের সামনে আসতে দিতে চাই। আমরা সংসদকে কার্যকরী করতে চাই। রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু যেন হয় সেটা আমরা চাই।