সোমবার (১ জুন) এ ঘটনা ঘটলেও বুধবার (৩ জুন) এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উদ্ধারের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, লাইফবোটের সাহায্যে তাদের উদ্ধার করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জোয়ারের সময় কয়েকজন পর্যটক সমুদ্রে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে চারজন পর্যটক নিরাপদ সীমার বাইরে চলে যান এবং প্রবল ঢেউ ও স্রোতের কারণে তীরে ফিরতে হিমশিম খেতে থাকেন।
দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, তারা পাঁচজন গ্রাম পুলিশ সদস্য সৈকতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পর্যটকদের বিপদে পড়তে দেখে তিনি ও তার সহকর্মী সফর আলী একটি লাইফবোটের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করেন। নৌকায় তোলার পর ক্লান্ত পর্যটকেরা শুয়ে পড়েন।
নুরুল আমিন বলেন, ‘আমরা নিয়মিত পর্যটকদের সতর্ক করি। ইউনিফর্ম পরে নিষিদ্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যেতে বারণ করি। কিন্তু অনেকেই নির্দেশনা মানতে চান না। অনেক সময় বাঁশি বাজিয়ে কিংবা কঠোরভাবে সরিয়ে আনতে হয়।’
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পর্যটকদের অসচেতনতা এবং সৈকতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকা নিয়ে নানা মন্তব্য করেন নেটিজেনরা। কেউ কেউ পর্যটকদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে দায়ী করেছেন, আবার অনেকে পর্যটন এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা ও উদ্ধারব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘ভেসে যাওয়ার ঘটনার খবর পাওয়ার পর সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা টানানো এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সতর্কবার্তাসংবলিত সাইনবোর্ড ও লাল পতাকা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপদে রাখতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’