আজ বুধবার (০৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাঁকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে, অন্যথায় তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন। ওএসডি হওয়ার আগপর্যন্ত ড. আনিসুর রহমান মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। পুরো ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতে ওই কর্মকর্তাকে ওএসডি করার প্রজ্ঞাপন জারি হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রয়াত নূরজাহান বেগমের সন্তানেরা সবাই সমাজে উচ্চপ্রতিষ্ঠিত। তাঁর এক ছেলে সরকারের যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং একমাত্র মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষিকা।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "আমাদের দেশে পিতামাতার ভরণপোষণ সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আইন অমান্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
উল্লেখ্য, গত রোববার মিরপুর-১১ নম্বরের একটি ফ্ল্যাট থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ ফোন পেয়ে নূরজাহান বেগমের পোকা ধরা ও পচা-গলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক বিষয় হলো, মায়ের সঙ্গে একই ফ্ল্যাটের পাশাপাশি রুমে বসবাস করলেও তাঁর মেয়ে মৃত্যুর বিষয়টি কাউকেই জানাননি। প্রতিবেশীরা দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিলে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
আইনজীবীরা জানান, ২০১৩ সালের ‘পিতামাতার ভরণপোষণ আইন’ (যা ২০২৩ সালে বিধিমালা আকারে চূড়ান্ত হয়) অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানকে তাঁর পিতামাতার ভরণপোষণ, নিয়মিত খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।