জানা গেছে, চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল শহরের সড়ক ও ফুটপাত দখল করে থাকা হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। এ সময় জেলা প্রশাসন, পুলিশসহ রাজনৈতিক নেতারাও ছিলেন অভিযানে। তবে গত কয়েকদিনের ব্যবধানেই আবারও ফুটপাত দখলে নেয় হকাররা। গত ৪ মে নাসিকের হকার উচ্ছেদ অভিযানের সময় কর্মচারীদের ওপর হামলা করে ফুটপাতের হকাররা। এ সময় দুই কর্মচারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন বলে অভিযোগ করেন নাসিকের উচ্ছেদ কর্মীরা। ৫ মে হকার উচ্ছেদ অভিযানে নাসিক কর্মীদের ওপর হামলায় ১০ জন হকারের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। নাসিকের আইন কর্মকর্তা মুহাম্মদ মিজানুর রহমা বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এরপর ৮ জুন আবারো শহরে নাসিকের উচ্ছেদকারী টিমের সঙ্গে হকারদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ সোমবার (২৪ আগষ্ট) বিকালে বিবি রোডে হকার উচ্ছেদ করা হলেও সন্ধ্যার পর থেকে ফের ফুটপাত দখল করে নেয় হকাররা। এ অভিযোগে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নিদের্শে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাকির সুপার মার্কেটের সামনে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এ সময় হকাররা সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ টিমের সাথে ধস্তাধস্তি করে বলে জানান উচ্ছেদ টিমের প্রধান সম্রাট হাসান সুজন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ টিম ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয়তাবাদী হকার দলের সভাপতি মিজানুর রহমান রনি অভিযোগ করে বলেন, গত চার মাস ধরে সিটি কর্পোরেশন উচ্ছেদ করেছে, শুধু হকার উচ্ছেদ করে নাই, চালিয়েছে স্টিমরোলার। চার মাস ধরে হকারদের বাড়িতে খাবার নেই, তারা দিশেহারা হয়ে গেছে। নাসিক কর্তৃপক্ষ যাদের থেকে পুনর্বাসনের নামে ভোটার আইডি কার্ড নিয়েছে তারা বহিরাগত। সিটি কর্পোরেশনের উচিত ছিলো, হকারদের ডেকে নিয়ে তালিকা নেয়া। রেলওয়ের অনুমতিপত্র নিয়ে আমাদের নতুন স্থানে বসানো হোক। তা না হলে পূনর্বাসনে যাবো না। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন হকারদের পূণবার্সন করে উচ্ছেদ চালাতে।