সোমবার বিকেল ৫ টার সময় জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের হালসানা মোড়ে সীমান্ত ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি ভয়াবহ অভিশাপ। মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। যারা মাদক ব্যবসার পথ পরিহার করে স্বাভাবিক ও সৎ জীবনে ফিরতে আন্তরিক, তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরে আসার সুযোগ দিতে হবে। তবে মাদক ব্যবসা, পরিবহন, বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে ১৬ জন মাদক কারবারি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। তারা ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসা ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থেকে সৎ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আত্মসমর্পণকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং মাদকমুক্ত জীবনযাপন ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার জন্য শপথ গ্রহণ করানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা চুরি, ডাকাতি, চোরাচালান, মানবপাচার, কিশোরগ্যাং, জুয়া ও মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব, মাদকাসক্তির কারণে পরিবার ও সমাজে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যা এবং মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। একই সঙ্গে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুধীজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ মনে করে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ এবং অপরাধের পথ থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে পুনঃএকীভূত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে।