শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে বগুড়ার কাহালু উপজেলা-র শিকড় নারহট্ট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সোনিয়া খাতুন (৩০) ও তার ১০ বছর বয়সী মেয়ে মেহা মনি। সোনিয়া ওই গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন সোনিয়া খাতুন। পারিবারিক টানাপোড়েনে তার দুটি সংসার ভেঙে যাওয়ার পর মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন তিনি। শুক্রবার সকালে বাড়ির উঠানে পরিবারের সদস্যরা রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ সোনিয়ার ঘর থেকে আগুনের শিখা বের হতে দেখে চিৎকার শুরু হয়।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে ঘরের ভেতর থেকে সোনিয়া খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তার মেয়ে মেহা মনিকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেও মারা যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে প্রাথমিকভাবে কেরোসিনের গন্ধ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে থাকতে পারেন সোনিয়া। তবে এটি নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।
একটি ছোট ঘরের আগুন মুহূর্তেই নিভিয়ে দিল মা-মেয়ের দুটি জীবন। শিকড় নারহট্ট গ্রামের বাতাসে এখন শুধু পোড়া গন্ধ নয়, ভেসে বেড়াচ্ছে এক অসহায় জীবনের দীর্ঘশ্বাস।