শহরের ফুলবাড়ী বানিয়াপাড়া এলাকায় রাত ১০টার দিকে ঘটে যায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সামান্য কথা-কাটাকাটি থেকেই যেন মুহূর্তেই পরিস্থিতি রূপ নেয় ভয়াবহতায়। কবরস্থানে আতা ফল পাড়া নিয়ে শুরু হওয়া তর্ক শেষ পর্যন্ত গড়ায় মৃত্যুর মিছিলে।
অভিযোগ রয়েছে, ৪ থেকে ৫ জন যুবক রবিনকে জোর করে কবরস্থানের পাশের একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে হকিস্টিক দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। অসহায় রবিনের আর্তনাদ রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে গেলেও, তার রক্তাক্ত দেহ পড়ে ছিল নিশ্চুপ।
স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান—সব শেষ। ততক্ষণে নিভে গেছে একটি তরুণ প্রাণের প্রদীপ। নিহত রবিন শহরের উত্তর চেলোপাড়া এলাকার মিরাজ হোসেনের ছেলে।
জানা গেছে, পূর্ব বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে উত্তর চেলোপাড়া ও নারুলী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এমনকি এর আগেও রবিনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি ভাঙা হকিস্টিক ও একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে একাধিক দল কাজ করছে।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়—এই সহিংসতার শেষ কোথায়? একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন বারবার ঝরে যায় তরতাজা প্রাণ? পরিবার হারায় সন্তান, সমাজ হারায় মানুষ। রবিনের জীবন নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও, তার এই নির্মম মৃত্যু যেন আরেকটি কঠিন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি—বিরোধ, প্রতিশোধ আর সহিংসতার এক অন্ধচক্রে আটকে পড়েছে আমাদের সমাজ।
আজ রবিন নেই। কিন্তু তার রক্তাক্ত স্মৃতি যেন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়—আর কত প্রাণ গেলে থামবে এই সহিংসতা?