মারা যাওয়া ব্যবসায়ী বিকাশ চন্দ্র কর্মকার বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কামারহাটি গ্রামের নিতাই চন্দ্র কর্মকারের ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে বিকাশ দ্বিতীয়। তিনি বিবাহিত এবং আট বছর বয়সী এক ছেলে ও ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। দেড় বছর আগে তার স্ত্রী মারা গেছেন। এরপর থেকে দুই সন্তান তাদের চাচা প্রকাশ চন্দ্র কর্মকারের বাড়িতে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকাশ চন্দ্র কর্মকার বোয়ালমারীর সাতৈর বাজারে একটি স্বর্ণের গহনা তৈরির দোকান চালাতেন। এই কাজে তাকে সহায়তা করতেন তার ছোট ভাই প্রকাশ চন্দ্র কর্মকার (৩৬)। ৬ বছর আগে বড় ভাই বিকাশ ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। মাদক গ্রহণের এই টাকা জোগাড় করতে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ঋণের টাকা লাখের ঘর ছাড়িয়ে গেলে গত পাঁচ বছর আগে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর থেকে সাতৈর বাজারের ওই দোকান তার ছোট ভাই প্রকাশই দেখাশোনা করতেন।
সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈয়দ শফিকুল আজম বলেন, ঋণগ্রস্ত হয়ে গত ৫ বছর বাইরে বাইরে থাকার পর গত ৫-৬ দিন আগে বিকাশ বাড়িতে আসেন। ঋণ পরিশোধ করতে না পারা, স্ত্রীর মৃত্যুসহ নানা কারণে হতাশায় ভুগছিলেন। এই হতাশা থেকেই ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনা শুনে রাতেই আমাদের থানা পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। যেহেতু ব্যাপারটি রেলের ঘটনা, এজন্য রাজবাড়ী রেলওয়ে পুলিশকেও জানানো হয়। রেলওয়ে পুলিশ আসার পর তাদেরকে সহযোগিতা করে আমাদের থানার পুলিশ।
রাজবাড়ী রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে রাজবাড়ী রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মারা যাওয়া বিকাশের মরদেহ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।