জানা গেছে, জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ বা দীর্ঘসূত্রতার কারণে একজন কর্মকর্তাকে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় ফাইল নিষ্পত্তি থেকে শুরু করে সেবামূলক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিলম্বিত হচ্ছে।
সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, একটি কাজ সম্পন্ন করতে তাদের একাধিকবার ঝিনাইদহ শহরে আসতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অভাবে ফাইল দিনের পর দিন পড়ে থাকছে। এতে বিশেষ করে গ্রামের সাধারণ মানুষকে মাসের পর মাস ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা গেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালত, ভূমি অফিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, বিদ্যুৎ অফিস, এলজিইডি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিআরটিএ, মৎস্য বিভাগ, শিক্ষা বিভাগসহ অন্তত অর্ধশত সরকারি দপ্তরে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ শাখায় এসিল্যান্ড, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ড্রাফটম্যান পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া ৮টি কানুনগো পদের সবগুলোই খালি। ৭০টি নায়েব পদের মধ্যে ১৬টি এবং ৭০টি সহকারী নায়েব পদের মধ্যে ৫৮টি পদ শূন্য। রাজস্ব শাখায় ২২৩টি পদের মধ্যে ৬৪টি পদে কোনো জনবল নেই।
স্বাস্থ্য বিভাগে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, চিকিৎসকের ৩২২টি পদের মধ্যে ১৮২টি, স্বাস্থ্য সহকারীর ২৩৯টির মধ্যে ১৪০টি, অফিস সহায়ক ৫২টি পদের মধ্যে ২৫টি, ওয়ার্ড বয় ১৫টি পদে ৯টি, ৩৩টি সুইপার পদে ১৭টি ও আয়া পদে ১০টির মধ্যে ৭টি পদেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শূন্যতা রয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে উপ-পরিচালক মোজাম্মেল করিম জানান, তার দপ্তরে ৮০১টি পদের মধ্যে ২৬৭টি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, তার দপ্তরে ২৮২টি পদের মধ্যে ১০২টি পদ খালি রয়েছে, যা মাঠ পর্যায়ের সেবায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
এছাড়া জেলা পরিষদ, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি অফিসেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। আয়কর অফিসে কোনো স্থায়ী জনবল না থাকায় অন্য অঞ্চল থেকে কর্মকর্তা এনে কাজ চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভূমি অফিসে কর্মকর্তা না থাকায় নামজারি কার্যক্রম ধীরগতির। ইউনিয়ন পর্যায়ের ভূমি অফিসে ৭৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় প্রতিদিন শত শত মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এছাড়া ঝিনাইদহ ইসলামি ফাউন্ডেশন, বিটিসিএল, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা, সরকারী মুক ও বধির স্কুল, ম্যাটস, ইনষ্টিটিটিউট অব হেলথ টেরনোলজি ও সরকারী শিশু হাসাপাতালে তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। ঝিনাইদহ বিটিসিএল অফিসে ১৯৯৯ সালের পর থেকে নিয়োগ বন্ধ।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো: নোমান হোসেন জানান, সীমিত জনবল দিয়ে সেবা চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছু পদে মামলা জটিলতা থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে। অধিকাংশ নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।