বুধবার (৩ জুন) বিকেলে শহরের মফিজ পাগলা মোড় এলাকায় অবস্থিত একতা ক্লিনিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বগুড়া জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজাদ হোসেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ক্লিনিকটির নানা অনিয়ম সামনে আসে। কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠানের মালিক আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী হলেও বাস্তবে ক্লিনিকটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছিলেন আনোয়ার হোসেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। অভিযানের সময় ক্লিনিকে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক বা লাইসেন্সধারী নার্সও উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে ক্লিনিকের ভেতরে সরকারি ওষুধ অবৈধভাবে মজুত ও ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে সেগুলো জব্দ করা হয়।
এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ক্লিনিকের পরিচালক আনোয়ার হোসেনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাজ্জাদ-উল-হক বলেন, “অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া সরকারি ওষুধগুলো জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে এই ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেছেন এমন চিকিৎসকদেরও সতর্ক করা হচ্ছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে কোনো অবৈধ প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা প্রদান না করেন।”
অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজাদ হোসেন জানান, বর্তমানে ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিবেচনায় তাদের একটি পরিচালকের জিম্মায় রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।